যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা অ্যামনেস্টির বিবৃতি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৫:২৬ এএম

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, শিক্ষার্থী বিক্ষোভের ঘটনা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানান তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক তার প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা বিলুপ্ত করে মেধা মূল্যায়নের দাবিতে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন হাজারো শিক্ষার্থী। আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৫০০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। যেসব শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালের জরুরি কক্ষে প্রবেশ করছিলেন, তাদের ওপরও হামলা চালায় ছাত্রলীগ। বাংলাদেশে চলমান এই বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান প্রশ্নকারী।

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। বিক্ষোভের বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিক্ষোভে দুজন নিহত হয়েছেন। (তবে ব্রিফিংয়ের আগে তখনো বাংলাদেশে বিক্ষোভ সংঘর্ষের কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি)

মিলার আরও বলেন, হামলায় কয়েক শ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা যেকোনো বিকাশমান গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য বিষয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো সহিংসতার নিন্দা জানান তারা। যারা এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি তারা সমবেদনা জানান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে হতাশ সরকার : বাংলাদেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে দুজন নিহত হয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের এমন মন্তব্যে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্দোলনে দুজনের মৃত্যুর যে দাবি মুখপাত্র করেছেন, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কোনো রকম তথ্য যাচাই না করেই যুক্তরাষ্ট্রের এমন ভিত্তিহীন দাবি সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন এ কথা বলেন। এর আগে গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ওয়াশিংটনের নিয়মিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ-সংক্রান্ত একটি প্রশ্নে ম্যাথিউ মিলার যে জবাব দিয়েছেন, তার জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতাশ। সেখানে মিলার চলমান ছাত্রবিক্ষোভে কমপক্ষে দুজনের মৃত্যুর যে দাবি করেছেন, তার পক্ষে তার কোনো প্রমাণ নেই।

বিফিংয়ে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এ ধরনের ভিত্তিহীন দাবির জন্য অযাচাই করা তথ্যে ব্যবহার সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে। এটি অহিংস প্রতিবাদ বা আন্দোলনের অনুমতি দেওয়ার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে।

সেহেলী সাবরিন বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি। সরকার জনগণের সম্পত্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করার পাশাপাশি নাগরিকদের সেই অধিকারগুলো সমুন্নত রাখতে অবিচল। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণনাশের একটি ভয়াবহ অপচেষ্টা লক্ষ করেছি। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের সহিংসতা গণতন্ত্রের মূল মূল্যবোধের বিরোধী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ পৃথকভাবে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপপদে আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন জেনে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।  গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূলবোধ সমুন্নত রাখতে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ব্রিফিং ছাড়াও গতকাল এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ম্যাথিউ মিলারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ বিষয়টি জানানো হয়।

অ্যামনেস্টির বিবৃতি : কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সোমবার রাত ২টা ৪৭ মিনিটে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দক্ষিণ এশিয়া শাখার ফেসবুক পেজের এক পোস্টে এ নিন্দা জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারা দেশের অন্য ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আমরা অবিলম্বে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বর্ণনাটি অতীতে অ্যামনেস্টি যে ধরনের সহিংসতার নথিভুক্ত করেছে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বেসামরিক পোশাকে থাকা ব্যক্তিরা হাতুড়ি, লাঠি ও অস্ত্র দেখিয়ে বিক্ষোভে বাধা দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের মারধর করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত