আপনারা আন্দোলন ছেড়ে আলোচনার টেবিলে আসুন

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৯ পিএম

আমার প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম। আমি আব্দুল গাফফার, বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের একজন সাবেক ফুটবলার। দেশের পতাকা বুকে নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। গত কয়েকদিনে দেশে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, রাজপথে যে পরিমাণ রক্ত ঝরেছে তাতে একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে, জাতীয় ফুটবল দলের একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমার কিছু বলা উচিৎ বলে মনে করি।

আপনারা কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু করেছিলেন, সেটা অত্যন্ত যৌক্তিক। আপনাদের মূল দাবি ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে কমিয়ে এনে মেধাবীদের দেওয়া। তবে এক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। আপনারা জানেন, আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ফলে কোটার এই ইস্যুটি এখন আদালতের আওতাধীন। 

এই দেশটা যারা স্বাধীন করেছেন তাঁরা এদেশের সূর্য সন্তান। তাদের সম্মানেই এই কোঠা প্রথা চালু করা হয়েছিল এবং ৩০ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে আপনাদের দাবি মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ দিতে হবে, সেটা হবে। কিন্তু এই দাবি আদায়ের জন্য যেভাবে আন্দোলন করছেন, সেটা কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের খোরাকে পরিণত হচ্ছে। তাঁরা কিন্তু আপনাদের ব্যবহার করে একটি ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করে আন্দোলনকে এমন খাতে নিয়ে যাচ্ছে যে দেখে একে সরকার পতনের আন্দোলন বলেই মনে হচ্ছে। আর যখন কোন আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিবে তখন সরকারের একটি স্ট্যান্ড নিতে হয় কিংবা সরকার একটি স্ট্যান্ড নেয়। 

প্রিয় ভাইবোনেরা, আন্দোলনে আমাদের যে ভাইয়ের মারা গেছে তাতে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এর দায় আমাদের ওপর বর্তায়। আমি সহিংসতা চাই না; আমি চাই না এই দেশে আমার আর কোন ভাইবোনের রক্ত ঝরুক; আমি চাই না আর কোন মায়ের বুক খালি হোক; আমি চাই না কোন বোন তাঁর ভাইকে খুঁজে না পেয়ে আর্তনাদ করুক। 

২০১১ সালে ঢাকায় লিওনেল মেসিদের স্বাগত জানাচ্ছেন আবদুল গাফফার। মেসির ডানে

আন্দোলনকারী ভাইয়েরা, আপনারা আমাদের ভবিষ্যৎ। আপনারা একদিন দেশ চালাবেন, এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন, প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতি-বিচারপতি হবেন। আমি একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে দেশের পতাকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে গিয়েছি, দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এতে কি পরিমাণ আনন্দ, গৌরব তা বোঝাতে পারব না। আমদের পরে আপনারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কোটা সংস্কারের এই দাবিতে আপনাদের যে নেতৃবৃন্দ আছেন তাঁরা আসেন, আমরা আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করে ফেলি।    

আন্দোলন করে রাস্তাঘাট আটকালে যানজট তৈরি হয়। রাস্তায় অসুস্থ রোগী থাকে, অনেকে দূরদূরান্ত থেকে আসেন সর্বোপরি মানুষের ভোগান্তি হয়। আমি মনে করি কোটা সংস্কারের দাবি এমন বড় কোন ইস্যু না। আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা আছেন তাদের সঙ্গে বসুন; কথা বলুন। আপনারাও এদেশের সন্তান, আন্দোলন ছেড়ে আলোচনার টেবিলে আসুন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমেই আমরা সমাধান করি। 

একটি কথা আমি বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যে কথা বলেছেন সেখানে কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলা হয়নি। এখানে আমার মনে হয় যে সাংবাদিক ওই প্রশ্নটি করেছিলেন সেই প্রশ্নেই সমস্যা ছিল।  আর এই বক্তব্য বিকৃত করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আপনাদের ভুল পথে চালিত করতে চাচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না; তাদের প্ররোচনায়, তাদের ফাঁদে পা দেবেন না। এদেশের সবাই বাঙালি, আমরা রাজাকার না। আমাদের স্লোগান হবে— আমি কে তুমি কে, বাঙালি বাঙালি। রাজাকার স্লোগান দেওয়ার জন্য আপনাদের যারা প্ররোচনা দিয়েছে বা আপনাদের এই ভুল পথে পরিচালিত করেছে তাদের প্রতি আমি নিন্দা জানাই।

আপনাদের প্রতি আমার দাবি থাকবে, আপনারা দেশকে ভালোবাসেন; দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। একে অন্যকে আঘাত করে রক্ত ঝরাবেন না। এই সমস্যা এই বিভেদ বেশীদিন থাকবে না। দ্রুতই সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন কিন্তু আপনারা আবার একসঙ্গে ক্লাসে যাবেন, চায়ের দোকানে দেখা হবে। একই হলে একই রুমে থাকতে হবে। তখন কীভাবে একে অন্যের দিকে তাকাবেন। প্রিয় শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা আপনাদের প্রতি আমি দাবি জানাচ্ছি আপনারা আন্দোলন না করে আলোচনা করুন। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসুন। আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত