চট্টগ্রাম নগরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে মুরাদপুর এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে উঠে যান ছাত্রলীগের অন্তত ১৫/২০ জন নেতাকর্মী। আন্দোলনকারীদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে ভবনটির ছাদের পেছনের অংশ দিয়ে কার্নিশ ও পানির পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে তিন নেতাকর্মী নিচে পড়ে যান। মাটিতে পরার পরও আহত অবস্থায় তাদের পেটানো হয়। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় মুরাদপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ভবন থেকে পড়ে আহতরা হলেন—আব্দুলল্লাহ আল সাইমুন, ওয়াহিদুল রহমান সুজন, ইরফানুল আলম, জাহেদ অভি, মেহরাজ সিদ্দিকী পাভেল, জাবেদ ইকবাল। তারা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে মুরাদপুরের সেই ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের আশ্বাস দেন।
মুরাদপুরের বেলাল মসজিদের পাশে পাঁচতলা ভবনে সংঘটিত এই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুক ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ছাদে আটকে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাদে পড়ে আছেন।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কোটা সংস্কার অন্দোলনকারীদের হামলার মুখে ছাদ থেকে ওই ভবনের পিছনের অংশের কার্নিশ ও পানির পাইপ বেয়ে ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নেমে আসার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে কয়েকজন সানশেডে ও জানালার মাঝের অংশে আশ্রয় নেন। তখনও উপরে থাকা আন্দোলনকারীরা পাথর ছুড়ে এবং লাঠি-হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে তাদের নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। নিচ থেকেও তাদের লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে ভবনটির ডানপাশের পাঁচ তলার সানশেড থেকে কালো পোশাক পরিহিত একজন নিচে পড়ে যান। মাটিতে পড়ে তার শরীর লাফিয়ে উঠে। তারপর নিথর পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আরেকজন উপর থেকে মাটিতে পড়ে যান।
ছাত্রলীগের পাঁচ-ছয়জন নেতাকর্মীকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। তিনি আজ বুধবার সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষের মধ্যে ধাওয়া খেয়ে ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন নেতাকর্মী বেলাল মসজিদের পাশে পাঁচতলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। এরপর ভবনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একজনের হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে।
‘কোটাবিরোধীর নামে ইসলামী ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে। কয়েক ঘণ্টা আহতরা ওই ভবনে আটকে ছিল। পুলিশকে বারবার বলার পরেও তারা উদ্ধারে এগিয়ে যেতে দেরি করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেডক্রিসেন্টের সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে’ বলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নুরুল আজিম রনি।
নগর ছাত্রলীগ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মারধরে ছাত্রলীগের অন্তত ১০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী জালাল উদ্দিন জুবায়ের নামে একজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তার হাত ও মাথায় আঘাত লেগেছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই নম্বর গেট থেকে ছাত্রলীগের একটি মিছিল যায় মুরাদপুরের দিকে। কোটা আন্দোলনকারীরা ধাওয়া দিলে পিছু হটে তারা। কেউ কেউ মুরাদপুর বেলাল মসজিদের পাশের ৫ তলা ভবনে আশ্রয় নেন।
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি, ছাত্রলীগের একটি অংশ ওই ভবনের ছাদে গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করেন। পরে আন্দোলনকারীরা গিয়ে প্রতিহত করেন। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, 'চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের ১৫/২০ জন নেতাকর্মী ওই ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা তাদের ছাদ থেকে ফেলে দেন।'
মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মায়মুন উদ্দিন মামুন অভিযোগ করেন, ছাত্রদল এবং শিবিরের চিহ্নিত অস্ত্রধারী ক্যাডাররা জালালসহ তিনজনের রগ কেটে দিয়েছেন। তারা চমেকের আইসিইউতে আছেন। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে একজন আইসিইউতে ভর্তি আছেন।
