৩০ ও ৩১ জুলাই পল্টনের শহীদ শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে বসার কথা ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক কুস্তি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ অ্যামেচার কুস্তি ফেডারেশন পাঁচ জাতি এই টুর্নামেন্টের নাম দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ এশীয় কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপ। সব রকম প্রস্তুতিও তারা গুছিয়ে এনেছিল। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশের ৩০ কুস্তিগির প্রায় এক মাস ধরে প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। তবে সবকিছুই ভেস্তে গেছে ছাত্রদের কোটা আন্দোলনের আড়ালে দেশব্যাপী চলমান নাশকতায়। এই আসর আবার কবে আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ফেডারেশনের কর্তারা।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার কুস্তিগিরদের নিয়ে আয়োজন করার কথা ছিল এই আমন্ত্রণমূলক আসর। দেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক কুস্তি টুর্নামেন্ট হতে পারত। অথচ দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আয়োজকরা বাধ্য হয়েছে আসরটি স্থগিত করতে। নিজ আঙিনায় খেলার অনন্য সুযোগ আপাতত হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে কুস্তিগিরদের মাঝে।
২৫ জুন থেকে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে স্থানীয় কোচ আশরাফ আলীর অধীনে ১৫ নারী ও সমসংখ্যক পুরুষ কুস্তিগিরকে নিয়ে শুরু হয় আবাসিক ক্যাম্প। ফেডারেশনের কর্তারা জানান, স্পন্সর না পাওয়া সত্যেও নিজস্ব কোষাগার থেকে পরিচালিত হচ্ছিল আবাসিক ক্যাম্প। পাশাপাশি আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। সরকার কারফিউর ঘোষণা দেওয়ার পর এই আয়োজন স্থগিত করেছে ফেডারেশন। এ প্রসঙ্গে যুগ্ম সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন আজাদ বলেন, ‘আমাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল টুর্নামেন্টটা না হওয়ায়। বেশ কিছু স্পন্সরের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছিলাম। আশা ছিল টাইটেলসহ বেশ কয়েকটি কো-স্পন্সর পেয়ে যাব টুর্নামেন্টের আগে। সেটা চিন্তা করেই যাবতীয় খরচ নিজস্ব তহবিল থেকে করছিলাম। এখন টুর্নামেন্টটা না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতি যেমন হয়েছে, পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও মন ভেঙে গেছে। ওরা এক মাস কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের ফিটনেস ভালো জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল। এখন টুর্নামেন্ট না হওয়ায় বাধ্য হয়েই ক্যাম্প বন্ধ করতে হচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় বিদেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। তা ছাড়া কারফিউর মধ্যে অতিথি দলগুলোকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে খেলানোও ছিল চ্যালেঞ্জিং। সব দিক বিবেচনা করে টুর্নামেন্টটি স্থগিত করেছি এবং টেলিফোনের মাধ্যমে অতিথি দলগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
