মির্জা ফখরুল বললেন

আন্দোলন দমনে এমন নির্মম নজির পৃথিবীতে নেই

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:০৫ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও স্বৈরাচার এরশাদের আমলেও এমন নির্বিচার হত্যাকা- ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যে বক্তব্য রাখছেন তাতে মনে হচ্ছে, তারা সরকারি দলের কোনো পদে আছেন। আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের আগ্রাসী ও নির্মম ভূমিকার নজির পৃথিবীতে নেই। গতকাল (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক এবং বিএনপির আদর্শে কুঠারাঘাতের শামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সই করা বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘কোটা সংস্কারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গতকাল (সোমবার) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২-দলীয় জোটের সমন্বয়কারী এহেসানুল হুদা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সমবায় সম্পাদক ও নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নাজমুল হক সানি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব তারেক প্রমুখকে সরকার গ্রেপ্তার করেছে। দেশব্যাপী বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, কারান্তরীণ ও নাজেহাল করেছে। আমরা এসব ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র ও মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী চিরকালই বিদ্বেষপরায়ণ। বর্তমানে বাংলাদেশে এক ব্যক্তির মধ্যযুগীয় শাসন চলছে। স্বৈরশাসনে সমাজ-সংস্কৃতি, সভ্য আচরণ আজ বিপন্ন। আসল সমস্যা হচ্ছে অনির্বাচিত, অবৈধ, ফ্যাসিবাদী ডামি সরকার। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনে কার ইশারায় রংপুরের আবু সাঈদসহ দেড় শতাধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তা জনগণ জানে। হত্যাকারী ও হামলাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিতে হবে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর এবং উপরিউক্ত নেতাদেরসহ সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার ও কারান্তরীণ করার ঘটনায় প্রমাণিত হয়, সরকারের ভিত কাঁপতে শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গণবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধাচরণকারী জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতেই কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার করা হয়েছে। হতাহতের প্রমাণ লোপাট করা হচ্ছে। দেশব্যাপী সংঘটিত সরকারি অপতৎপরতা এবং পৈশাচিক ও বর্বরোচিত ঘটনা সারা বিশ্ব থেকে আড়াল করতেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি দেশের একটি বৃহৎ ও জনপ্রিয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলটি সব সময় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সুতরাং বিএনপি কখনোই জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থা নিতে পারে না। ফ্যাসিবাদী সরকারের পদতাগ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সুশাসন ও আইনের শাসন কায়েম করা সম্ভব নয়। তাই আমরা আবারও এ জনবিচ্ছিন্ন, ভোটবিহীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

মির্জা ফখরুল অবিলম্বে হামলাকীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ও গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত