প্যারিসগামীদের লক্ষ্য

নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চান সোনিয়া

অলিম্পিকের মতো এত বড় একটা আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া মানে বড় একটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো। সেখানে আমার লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ইভেন্টে সেরা টাইমিং করা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৫:০১ পিএম

প্রথমবারের মতো অলিম্পিকের মহামঞ্চে নিজেকে চেনাতে যাচ্ছেন সাঁতারু সোনিয়া খাতুন। প্যারিসে ২৬ জুলাই শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিকে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ২৪ বছর বয়সী এই সাঁতারু। সাঁতারের বিশ্ব সংস্থা ফিনার বদান্যতায় অলিম্পিকের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে সোনিয়ার। বাংলাদেশের পাঁচজন সৌভাগ্যবানের একজন সোনিয়া। ছোট্ট এই দলে সোনিয়াই একমাত্র নারী ক্রীড়াবিদ। ঝিনাইদহ থেকে উঠে আসার পর বিকেএসপিতে বিকশিত হওয়া এই সাঁতারুর স্বপ্ন বড় মঞ্চে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

ঝিনাইদহের ভুটিয়ারগাতী গ্রামের মেয়ে সোনিয়া। সেখানেই স্থানীয় কোচ তরিকুল ইসলামের কাছে সাঁতারের হাতেখড়ি। এরপর ২০১৩ সালে ভর্তি হন বিকেএসপিতে। সেখানেই আধুনিক সাঁতারের সঙ্গে সখ্য ঘটে তার। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে আলো ছড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অলিম্পিকে। গত বছর হাংঝু এশিয়ান গেমসে নিজের সেরা টাইমিং গড়েন সোনিয়া। ৩০.১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সব প্রতিযোগীর মধ্যে হন ২৭তম। এবার সেই টাইমিং ছাড়িয়ে যেতে গেল দুই মাস ধরে বিকেএসপিতে কোচ আব্দুল হামিদের অধীনে নিজেকে প্রস্তুত করছেন সোনিয়া। 

ওয়াইল্ড কার্ডে অলিম্পিকযাত্রা নিশ্চিত হলেও নিজের সেরাটা দিতে বদ্ধপরিকর সোনিয়া। অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই সাঁতারু বলেন, ‘অলিম্পিকের মতো এত বড় একটা আসরে খেলার সুযোগ পাওয়া মানে বড় একটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো। সেখানে আমার লক্ষ্য থাকবে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ইভেন্টে সেরা টাইমিং করা।’

পুলের প্রস্তুতির পাশাপাশি সোনিয়াকে মানসিকভাবেও নিজেকে প্রস্তুত করতে হচ্ছে। নার্ভ ঠিক রেখে বিশ্বেরা সেরা সাঁতারুদের সঙ্গে লড়াই করতে সেটাও ভীষণ জরুরি। সোনিয়া বলেন, ‘অলিম্পিকের মতো বিশাল একটা আসরে পুলে নামব, মানসিকভাবে ব্যাপারটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছি। ভালো কিছু করার চ্যালেঞ্জটা সম্পূর্ণ নিজের কাছে।’ তবে বাস্তবতা মেনেই নিজেদের পিছিয়ে থাকার কথাটা স্বীকার করে নিয়েছেন সোনিয়া, ‘অলিম্পিক কিংবা এশিয়ান গেমসে পদকজয়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সাঁতারুদের তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সেটা সব কিছুতেই। বিশ্বের সেরা সাঁতারুরা সারা বছর অনুশীলনের মধ্যে থাকেন। দেশ-বিদেশে অনেক খেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের তৈরি করেন। তাদের সুযোগ-সুবিধাও সব বিশ্বমানের। খাবার, আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে যা যা করা দরকার সবই তারা করেন। এছাড়া বিশ্বসেরা কোচদের অধীনে তারা নিজেদের প্রস্তুত করেন। সব মিলিয়ে সুযোগ-সুবিধার দিকে আমাদের সঙ্গে ওদের অনেক পার্থক্য।’

বাংলাদেশি সাঁতারুদের এ দেশে নিজেদের সত্যিকারের অবস্থানটা বোঝার উপায় নেই। মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে ২০১৯ সালে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ড বসিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। তবে সেটা স্থাপনের পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এটা এখনো ঠিক করা হয়নি। ফলে সনাতনী হ্যান্ড টাইমিংই সম্বল। অলিম্পিকে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে খেলে নিজের অবস্থান জানতে পারবেন সোনিয়া। তবে এটা বড় একটা মনস্তাত্তি¡ক চাপ বলে মনে করেন তিনি, ‘দেশে আমাদের হ্যান্ড টাইমিংয়ে খেলতে হয়। তবে অলিম্পিকে ইলেকট্রনিক টাইমিং থাকবে। এতে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।’ সোনিয়া মনে করেন অলিম্পিকের মতো বড় আসরকে সামনে রেখে প্রস্তুতিটা হতে হবে সেই মানের। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে সেখানে ভালো করা সম্ভব নয়, ‘আমি মনে করি অলিম্পিক গেমসের জন্য আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও স্পনসর পেলে আমরাও বাইরের দেশের খেলেয়াড়দের মতো নিজেকে তৈরি করতে পারব।’

সোনিয়াকে গেল দুমাস ধরে প্রশিক্ষণ করাচ্ছেন বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ। ২০০১-২০০২ সালে ভারতের পাতিয়ালায় এক বছরের ডিপ্লোমা করে আসা এই কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন সোনিয়া ও সামিউল ইসলাম রাফির কোচ হয়ে। থাইল্যান্ডে প্রশিক্ষণ করা রাফিকে কাছাকাছি না পেলেও সোনিয়াকে সরাসরি প্রস্তুত করছেন তিনি। সোনিয়াকে নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন হামিদ, ‘এমনিতে ওর লক্ষ্য নিজের সেরা টাইমিং করা। সেটাকে সামনে রেখেই ও প্রস্তুত হচ্ছে। সত্যি বললে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে অলিম্পিকের মতো আসরে খুব ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য এসএ গেমসে পদক পাওয়া। সেটা পেতে হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। মাঝখানে সাত মাস সবাইকে বসে থাকতে হয়েছে। এটা মাইক্রো সেকেন্ডের খেলা। এখানে বসে থাকা মানেই পারফরম্যান্স নেমে যায়।’

অতীতে অলিম্পিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসাদের মতো সোনিয়ারও প্যারিসযাত্রা কেবলই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ও অভিজ্ঞতা অর্জনের। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত