কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের ঘৃণিত সন্ত্রাসী কর্মকা- ও অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ভবনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা পূরণে কোনো অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির মূল উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া।’
উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে থামিয়ে দিতে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগীরা সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে অভিযোগ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই অপশক্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল চেতনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। যা আমরা কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না। দেশবিরোধী এই অপশক্তি বিভিন্ন ধরনের গুজব সৃষ্টি করছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতিহাসের জঘন্যতম নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত, ছাত্রদল-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডাররা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ণ নিখাদ এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে পুঁজি করে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিস্তার ঘটানো হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমন্বয়করা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, এ ধরনের ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকা- ও অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা এর দায়ভার নেয়নি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সমগ্র দেশবাসীর কাছে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, এই সন্ত্রাসী কর্মকা- ও অগ্নিসন্ত্রাসের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী জড়িত। তারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ অনেক নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা করেছে এবং অনেককে হত্যা করেছে। নজিরবিহীনভাবে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করেছে। এমনকি এরা বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিভিন্ন স্মারক যেমন মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজাসহ বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ভবন, বিআরটিএ, ডাটা সেন্টার, বিভিন্ন থানা ও পুলিশ বক্স, নরসিংদী কারাগার এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ও অগ্নিসংযোগ করেছে।’
নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে অসহায়, গরিব, দুস্থ মানুষের পাশে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় নিম্নবিত্ত, গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।’
