ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কূটনীতিকরা স্তম্ভিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৭:০৭ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে, তা দেখে বিদেশি কূটনীতিকরা স্তম্ভিত হয়েছেন। তবে তারা বলেছেন, পাশে থাকবেন। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ধ্বংসের শিকার রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থান বিশেষ করে মেট্রোরেলসহ কয়েকটি স্থাপনা কূটনীতিকদের সরেজমিনে দেখিয়েছে সরকার। এরপর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে বিদেশি কূটনীতিকদের মেট্রোরেল, সেতু ভবন ও বিটিভি ভবনের ধ্বংসযজ্ঞ দেখানো হয়েছে। তারা এসব ধ্বংসযজ্ঞ দেখে স্তম্ভিত, আমি নিজেও স্তম্ভিত। প্রতিটি জায়গায় এরকম ধ্বংসযজ্ঞ, এটা কল্পনার বাইরে ছিল। তারা বলেছেন, দিস ইজ শেম। অনেকেই আমার কাছে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, তবে এটা তোমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৬৪ সালে বিটিভি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনীও সেখানে হামলা চালায়নি। তবে এখন সেখানে পুরো বিল্ডিং পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি জনগণের সম্পত্তি। পাকিস্তানি হানাদারদের কায়দায় সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

কোটা আন্দোলন চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘের যান ব্যবহারসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের কোনো ভেহিকেল (যান) ব্যবহার করা হচ্ছে না। এগুলো (যান) জাতিসংঘ শান্তি মিশনে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। লোগোটা মোছা হয়নি ভুলে। সেই লোগোগুলো এখন মুছে দেওয়া হয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াত বিক্ষোভ করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের সমাবেশে পাকিস্তানিরা যোগ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে প্রবাসীরা বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকালে আরব আমিরাতে ৫৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।’ তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধের খবরটি গুজব বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘(আজকে) মোট ৪৯টি মিশনের প্রতিনিধি ছিলেন। ২৩ জন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। আজকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আমাদের সঙ্গে ছিলেন। কূটনীতিকদের মেট্রোরেলের ধ্বংসযজ্ঞ, সড়ক ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিটিভি দেখিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আরও কিছু দেখানোর। তাদের আমরা সব জায়গায় নিতে পারিনি। অর্ধদিনের নোটিসে এ কঠিন সময়ে এত রাষ্ট্রদূত যাওয়া সহজ কাজ ছিল না।’

গত ১৮ জুলাই ঢাকার কূটনৈতিক মিশন থেকে পাঠানো ব্রিফ নোটের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয় থেকে সবার কাছে নোট পাঠিয়েছি। কোনো বিদেশি দূতাবাস বা কূটনীতিকরা যেন গণমাধ্যমে কোনো বিবৃতি না পাঠান। তারা সেটি মেনেছেন। অতীতে এ ধরনের কিছু ঘটলে কূটনীতিকদের প্রভোক করা হতো। এবার গণমাধ্যম করেনি। হয়তো কিছু দেশ তাদের মতো বিবৃতি দিয়েছে।’

কোটা আন্দোলন কেন্দ্র করে দেশে কত লোক মারা গেছে, এ তথ্য কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছে কি না এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেটি সবাই জানতে চায়। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

সম্প্রতি কোটা আন্দোলন কেন্দ্র করে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ল-এনফোর্সমেন্ট ও ইন্টেলিজেন্সির কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না এবং সরকারের সেটি তদন্ত করা প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের ল-এনফোর্সেমেন্ট এজেন্সিগুলো কাজ করছে। কাজ করে তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের ল-এনফোর্সেমেন্ট এজেন্সিগুলো যথেষ্ট চেষ্টা করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত