মাইলস ও শাফিন আহমেদ এ দুটো ছিল অবিচ্ছেদ্য নাম। যদিও অনেকেই মনে করেন মাইলসের প্রতিষ্ঠাতা শাফিন আহমেদ। আদতে তা নয়। মাইলসের প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ রশিদ। লন্ডন থেকে দেশে ফিরে একটি ব্যান্ড গঠন করেন ফরিদ রশিদ। নাম দেন ‘মাইলস’। প্রথম লাইন আপের কয়েক মাস পরই দলটিতে যোগ দেন দুই সহোদর হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ।
শাফিন আহমেদ শুনিয়েছিলেন কীভাবে মাইলসের সঙ্গে তিনি যুক্ত হন। বলেছিলেন, ‘১৯৭৯ সালের কথা। আমরা কিছু কমন বন্ধু একসঙ্গে নিয়মিত আড্ডা দিতাম। সবাই মিউজিক করতাম। মাইলস গড়ে ওঠার কিছুদিন পর ধানমণ্ডিতে বন্ধু মুসার বাসায় ফরিদ রশিদের সঙ্গে আমাদের দুই ভাইয়ের দেখা। মুসা তখন মাইলসের রিদম গিটারিস্ট। সেখানে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা-গান হলো। আমাদের দুই ভাইয়ের পারফরম্যান্স দেখে খুব পছন্দ করেন ফরিদ রশিদ। এর কয়েক দিন পরই আমাদের অফার দেন মাইলসে যোগদানের জন্য। আমি রাজি হয়ে যাই।’
এরপর ৩ বছর পরে মাইলসে যোগ দেন মানাম আহমেদ। মানামের বাবা মনসুর আহমেদ তখন নামকরা সংগীত পরিচালক। তাদের বাসায় ব্যান্ড মিউজিকের সমস্ত ইনস্ট্রুমেন্ট। ফরিদ রশিদ মাঝেমধ্যেই তাদের বাসায় যেতেন। মানাম তখন বাসায় বিভিন্ন যন্ত্র অনুশীলন করতেন।
মাইলসের বর্তমান লাইন আপের অন্য দুই সদস্য সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য ও ইকবাল আসিফ জুয়েল। তূর্য মাইলসে যোগ দেন ১৯৯৬ সালে আর ইকবাল আসিফ জুয়েল ১৯৯৮ সালে। শুরুতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল [সাবেক শেরাটন] হোটেলে সপ্তাহে পাঁচ দিন ইংরেজি গান কাভার করত মাইলস। বাংলাদেশ টেলিভিশনে তারা প্রথম গান করে ১৯৮২ সালে। সে বছরই শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথম লাইভ কনসার্ট করে। একই বছর প্রকাশ পায় তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘মাইলস’ [ইংরেজি]। ১৯৯১ সালে বের করে প্রথম বাংলা অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’। ১৯৯৩ সালে ‘প্রত্যাশা’।
শাফিন বলেছিলেন, “বাংলা ব্যান্ড ইতিহাসে ‘প্রত্যাশা’র মতো আর কোনো ক্যাসেট বিক্রি হয়নি। গান শুনতে শুনতে ক্যাসেট ভেঙে গেলে মানুষ আবার ক্যাসেট কিনত, সংগ্রহে রাখত। এই ক্যাসেটের প্রতিটি গান ছিল শ্রোতাদের মুখস্থ।”
এ পর্যন্ত মাইলসের প্রকাশিত অ্যালবাম ১১টি। এর বাইরে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে ‘বেস্ট অব মাইলস ১’ ও ‘বেস্ট অব মাইলস ২’। প্রকাশ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডিস্কো রেকর্ডিং। ১৯৯৮ সালে ভারতের আশা অডিও থেকে প্রকাশিত হয় ‘বেস্ট অব মাইলস ১’ ও ‘বেস্ট অব মাইলস ২’। দেশ-বিদেশে এ পর্যন্ত ৩৫০টির বেশি কনসার্ট ও অনেক চ্যারিটি শো করেছে তারা। প্রকাশিত গান দুই শতাধিক। মানাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি গান টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে বানানো হয়। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ব্যান্ডটি এগিয়ে গেছে।’
