যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির নতুন প্রার্থী হওয়ার পথে থাকা কমলা হ্যারিস অল্পদিনেই জনসমর্থনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছাকাছি চলে এসেছেন। আগের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনায় ভালো অবস্থানে উঠে এসেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার অন্তত দুটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নির্ধারণী ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে হ্যারিসের ব্যবধান কমে এসেছে।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। কমলাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে কয়েক দিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন, কমলা হ্যারিসের নিজস্ব দর্শন, স্বকীয়তা এবং শক্তি রয়েছে, যা সংকটময় মুহূর্তে একজন প্রেসিডেন্টের থাকাটা খুব জরুরি।
নির্বাচনী দৌড় থেকে বাইডেন গত রবিবার সরে দাঁড়ানোর পরই তার জায়গায় সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের নাম। নির্বাচনী প্রচার সমাবেশগুলোতেও হ্যারিস ভালো বক্তব্য রাখছেন। তার প্রভাব দেখা গেছে জনমত জরিপেও।
বাইডেন প্রার্থী থাকার সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন জনমত জরিপে তাকে জনসমর্থনে ট্রাম্পের চেয়ে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু কমলা হ্যারিস জনসমর্থনে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে গিয়ে ট্রাম্পের কাছাকাছি চলে এসেছেন।
কিছু কিছু জরিপে ট্রাম্প-হ্যারিসের ব্যবধান ২ কিংবা ১ পয়েন্ট, কিছু জরিপে সমানে সমান, আবার কোনো কোনো জরিপে ট্রাম্পের থেকেও হ্যারিসকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এমারসন কলেজ/দ্য হিল পরিচালিত জরিপের ফলে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এমন চারটি রাজ্যে ট্রাম্প সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অ্যারিজোনায় ট্রাম্পের সমর্থন ৪৯ শতাংশ আর হ্যারিসের ৪৪ শতাংশ, জর্জিয়ায় ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ এবং হ্যারিস ৪৬ শতাংশ, মিশিগানে ট্রাম্প ৪৬ শতাংশ আর হ্যারিস ৪৫ শতাংশ, পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্প ৪৮ শতাংশ এবং হ্যারিস ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এ ছাড়া, উইসকনসিনে ট্রাম্প এবং হ্যারিস সমান জনসমর্থন পেয়েছেন। দুজনই পেয়েছেন ৪৭ শতাংশ সমর্থন।
গত ২২-২৩ জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ১ হাজার ১৪২ জনের ওপর পরিচালিত নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের জরিপের ফল প্রকাশ পেয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের বিপরীতে বাইডেনের তুলনায় ভালো ফল করেছেন কমলা। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যবধান দেখা যাচ্ছে মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্ট (ট্রাম্প ৪৮ আর কমলা হ্যারিস ৪৬ শতাংশ); যেখানে আগে ট্রাম্পের সঙ্গে বাইডেনের ব্যবধান ছিল ৮ শতাংশ পয়েন্ট (ট্রাম্প ৪৯ আর বাইডেন ৪১ শতাংশ)।
এর আগে মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত জনমত জরিপের ফলে দেখা যায়, ট্রাম্পের চেয়ে জনসমর্থনে কমলা হ্যারিস এগিয়ে রয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪৪ আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৪২ শতাংশ সমর্থন। আরও চারটি জরিপে ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের ব্যবধান কম দেখা গেছে। ২২-২৩ জুলাইয়ে পরিচালিত সিএনএন/এসএসআরএস জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প এবং কমলার ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট (ট্রাম্প ৪৭ ও কমলা হ্যারিস ৪৫ শতাংশ)।
মর্নিং কনসাল্ট জরিপে ট্রাম্প এবং হ্যারিসের ব্যবধান দেখা গেছে ১ পয়েন্ট (ট্রাম্প ৪৬ আর হ্যারিস ৪৫ শতাংশ)। এনপিআর/পিবিএস/মারিস্ট জরিপে দুজনের মধ্যে ব্যবধান ৩ পয়েন্ট (ট্রাম্প ৪৪ আর হ্যারিস ৪১ শতাংশ)।
এমন অবস্থায় কমলার জন্য চিন্তার কারণ ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে গতকাল এক বিবৃতিতে কমলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে বারাক ও মিশেল ওবামা। বাইডেন সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এক বিবৃতিতে বারাক ওবামা তার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। কিন্তু তিনি তখন কমলাকে সমর্থন জানাননি। গতকাল বিবৃতিতে বারাক ওবামা বলেন, কমলা হ্যারিসকে সমর্থন জানানোর বিষয় নিয়ে তারা আর দেরি করতে চান না। তারা কমলাকে জয়ী করতে সম্ভাব্য সবকিছু করবেন।
এ দম্পতি বিবৃতিতে বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে একমত। তিনি কমলাকে বেছে নিয়ে সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ দায়িত্ব নেওয়ার মতো সামর্থ্য কমলার রয়েছে।
বিবৃতিতে ওবামা-মিশেল দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল, সিনেটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলার রেকর্ড তুলে ধরেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, তবে এর চেয়ে বেশি যোগ্যতা ও সক্ষমতা কমলার রয়েছে। তার দর্শন, স্বকীয়তা ও শক্তি রয়েছে, যা সংকটময় মুহূর্তে জরুরি। আমাদের মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, কমলা হ্যারিস এবারের নির্বাচনে জিতে মার্কিন জনগণের জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন।
অনলাইনে বিবৃতির সঙ্গে একটি ভিডিও দেওয়া হয়েছে যাতে দেখা যায়, ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন এবং কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি তাকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভিডিও ক্লিপে কমলা বলেন, ‘ওহ ঈশ্বর! মিশেল, বারাক এটা আমার জন্য বিরাট পাওয়া।’
