ব্যর্থতা আড়াল করতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার : ফখরুল

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৫ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের গুম করে রেখে চার থেকে পাঁচ দিন পর আদালতে হাজির করা হচ্ছে। সরকারের এমন নজির দেশের আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্যর্থতা আড়াল করতে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে সরকার।’ গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারদলীয় সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ইতিহাসে হতাহতের যে বর্বরোচিত নজির স্থাপন করেছে, তা দেশ-বিদেশের সব স্বৈরাচারের নির্মম নিষ্ঠুরতাকেও হার মানিয়েছে।’

সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার, কারান্তরীণ ও জুলুম-নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবৈধ সরকার নিজেদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ব্যর্থতা আড়াল করতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির জাতীয় ও নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন সিকদার, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজকে গ্রেপ্তার এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির গ্রেপ্তার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন খোকনকে তিন দিন পর আদালতে তোলা হয়েছে। অব্যাহত গতিতে দেশব্যাপী বিরোধী দলের নেতাকর্মীর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি হচ্ছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর বাসাসহ অনেক সিনিয়র নেতার বাসায় তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

তিনি বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের গুম করে রাখার ভয়াবহ সংস্কৃতি চালু রেখে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে। সরকারকে এ ধরনের লোমহর্ষক কর্মকান্ড পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে সরকারের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। কিছুদিন যাবৎ কোটা সংস্কার আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা যখন যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনরত, তখন সরকারপ্রধানসহ সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীরা তাদের তাচ্ছিল্য করে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নির্দেশ দেয় তাদের নির্মূল করার।’ 

তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সন্ত্রাসী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে জনগণের টাকার কেনা গুলি, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপের মাধ্যমে শত শত নিরীহ ছাত্রছাত্রীকে গণহারে হত্যা এবং হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে আহত করেছে, যা দেশবাসীসহ বিশ্ববাসী অবলোকন করেছে। এই নির্মম অত্যাচারে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ হতবাক ও ক্ষুব্ধ এবং কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নৈতিক সমর্থন দিয়েছে এবং সারা দেশে কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু অবৈধ সরকার মরিয়া হয়ে রাষ্ট্রের সব বাহিনীসহ দলীয় সন্ত্রাসীদের সাধারণ মানুষ, বিএনপি নেতা-কর্মী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে ব্লক রেড দিয়ে গ্রেপ্তার করছে। এখন পর্যন্ত তাদের হিসাবে প্রায় ৩ হাজার গ্রেপ্তার করেছে; যা জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জার।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ন্যায়সংগত আন্দোলন দমন করার জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহার কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে সান্ধ্য আইন প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। বরাবরই আওয়মী লীগ লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় গেছে এবং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য কয়েক দিন যে পরিমাণ নিরীহ ছাত্র-মানুষকে গুলি চালিয়ে পাখির মতো হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কথাই মনে করিয়ে দেয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কয়েক দিনে কতজন নিরীহ মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে, জনগণ তার সঠিক পরিসংখ্যান জানতে চায়। এ ছাড়া জনগণের টাকায় কেনা কী পরিমাণ গোলাবারুদ, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যবহার করা হয়েছে তারও হিসাব জনগণ জানতে চায়। রাষ্ট্রের টাকায় কেনা হেলিকপ্টার দিয়ে মানুষ হত্যার জবাব জনগণ একদিন কড়ায়গন্ডায় আদায় করে নেবে।’

তিনি বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য নির্মমভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তাই এই অবৈধ সরকারকে বলব, ‘অবিলম্বে পদত্যাগ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিধান করার লক্ষ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই গণহত্যা, নির্যাতন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সব দেশপ্রেমিক মানুষ, রাজনৈতিক দল, ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে পরাজিত করে জনগণের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের দুর্বার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বিএনপি মহাসচিব বিবৃতিতে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার বিএনপির উপরোল্লিখিত নেতাদ্বয়সহ সব নেতার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে সবার নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত