পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন

তাণ্ডব মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪, ০৭:০২ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আদালতের রায় হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা না করার সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা দেশে নৈরাজ্য চালিয়েছে এবং সেই তাণ্ডব মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামাদের মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে রাষ্ট্র আক্রান্ত। এ হামলা তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) বিএনপি নেতারা স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, ছাত্রলীগ কর্মীকে মারলে ৫ হাজার ও পুলিশ মারলে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি বিএনপি-জামায়াত দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও তাদের সহায় সম্পত্তি আক্রান্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংস ও রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হানা হয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’

সব নৈরাজ্যকারী ও চক্রান্তকারীর বিচার হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি নাশকতার ঘটনার তদন্ত হবে, আমাদের কাছে ফুটেজ আছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে এবং বিচারের আওতায় আনা হবে।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ধৈর্য না ধরায়, দুর্বৃত্তরা এর সুযোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বলব, তোমরা যাতে কারও প্ররোচনায় না পড়ো, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।’

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। বাংলাদেশকে অচল করে দেওয়ার জন্য তারা দেশের প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা করেছে। যারা ক্ষয়ক্ষতি করার চিন্তা করে, ইসলাম তাদের কখনো সমর্থন করে না। যারা দেশ জুড়ে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেট্রোরেলে হামলা চালানো হয়েছে। সাধারণ জনগণ যাতায়াত করতে কষ্ট পাচ্ছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী। আজ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। পুলিশ সদস্যকে মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের এ নৃশংসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে পার্টির মহাসচিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন এবং মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী, মুফতি আবদুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহ, লক্ষ্মীপুরের পীর খাজা হারুনুর রশিদ মিরন প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন। পরে মাওলানা হারুন-রশিদ যুক্তিবাদী দেশ ও বিশ্বের শান্তি কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত