কোটা আন্দোলনকে ঘিরে এক অদ্ভুত সময় পার করলাম আমরা। সাধারণ ছাত্ররা কোটার সংস্কার চাইল, সরকারও বলল যে তারাও সংস্কার চায়। কোটা নির্ধারণ করা বা না করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়; এ ক্ষেত্রে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সরকার। কিন্তু বল তার আগেই চলে গিয়েছিল আদালত চত্বরে। সেখান থেকে বল নিজেদের মাঠে ফিরে এনে তো খেলতে হবে। সে জন্য সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সে সময় ক্ষেপণে নারাজ। সরকার তো তা মেনে নিতে পারে না; তাই ছাত্রলীগকে প্রস্তুত করা হলো। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা আর কী। এতদিন তাদের এ জাতীয় কাজে দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত। কিন্তু এবার হোঁচট খেল, সেটা হয়ে গেল বুমেরাং; আওয়ামী লীগেরও আগে প্রতিষ্ঠিত অযুত কৃতিত্বের অধিকারী ছাত্রলীগ প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত হলো। মফস্বল শহরগুলোতেও তাদের অবস্থা ভিন্ন কিছু ছিল না। রাস্তায় রক্ত ঝরা শুরু হয়ে গেল। পত্রিকায় দেখলাম এ যাত্রায় প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ অতিক্রম করেছে (২৬ জুলাই, ২০২৪, দৈনিক বণিক বার্তা)।
বিগত দুবছর ধরে মানুষ মুদ্রাস্ফীতির যাঁতাকলে নাকাল হচ্ছে। এর মধ্যে গেল বছরের মুদ্রাস্ফীতি ছিল এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ; গড়ে ৯.৭২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল আরও বেশি; ১০ শতাংশেরও অধিক। আগস্ট মাসে এটা উঠে যায় ১২.৫৪ শতাংশে (প্রথম আলো, জুলাই ২৪, ২০২৪)। নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়। কাজেই এর যাতনায় তারাই হন বেশি নিষ্পেষিত।
বিগত ২২ জুলাই কারফিউ চলাকালে সকালে নিচে নেমে দেখি কোনো লোকজন নেই, কিন্তু বেশ কয়েকটি রিকশা দাঁড়িয়ে। এদের মধ্যে দুজন চালক ছিলেন বেশ বয়স্ক ও ছিন্নবস্ত্র পরিহিত। কারফিউ এর মধ্যে আদেশ ভঙ্গ করে রিকশা বের করার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাদের উত্তর ছিল, ‘প্রয়োজন কোনো বাধ মানে না’। আমরা বই পড়ে এই আপ্তবাক্য শিখেছি, দেখলাম তারাও এটা শিখেছে, তবে জীবন থেকে। তারা আমাকে রিকশার যাত্রী হতে অনুনয়-বিনয় শুরু করে দিলেন। কিন্তু আমার প্রয়োজন ছিল না। তাই হাতে যৎসামান্য যা ছিল, তা দুজনকে ভাড়া হিসেবে ভাগ করে দিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। ওই দিন টিভিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা সভায় অনেককে জান কোরবানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে ও সমর্থন জানাতে দেখলাম। তখন মনে হলো তারা যদি এর বদলে তাদের খেলাপি ঋণের একটা ক্ষুদ্র ভগ্নাংশও এসব দিন এনে দিন খাওয়া অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা হিসেবে বিতরণ করতেন, তবে তা হতো প্রকৃত অর্থে সমর্থন। প্রধানমন্ত্রী পরদিন হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া এসব অসহায় মানুষকে সাহায্যার্থে তার নেতাকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। উন্নয়নের জোয়ারের মধ্যে এটাও দেশের একাংশের বাস্তব চিত্র।
বিলম্বে হলেও মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। নীতি সুদ হার বাড়িয়ে ৮.৫ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার কমিয়ে ৯.৫ শতাংশ নির্ধারণ করে। কিন্তু মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়হীনতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এই নীতি ঠিকভাবে কাজে আসছে না। অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের অবস্থাও তথৈবচ; প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি, মুদ্রা বিনিময় হার, লেনদেনের ভারসাম্য, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, আর্থিক হিসাব ও চলতি হিসাবের অবস্থা, রাজস্ব আহরণ, কর্মসংস্থান, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সুদ পরিষেবা, বাজেট বাস্তবায়ন প্রতিটা ক্ষেত্রে অবস্থা বেশ কিছু দিন থেকে প্রত্যাশার অনেক নিচে। আমদানি কমিয়ে স্থিতি ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে; গ্রহণ করা হচ্ছে বিলম্বিত দায় পরিশোধ ব্যবস্থার। কিন্তু দেশে কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি ছাড়া রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ খুবই সীমিত। আবার গ্যাস ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। ফলে রপ্তানি কমতে শুরু করেছে। আমরা এতদিন জানতাম যে, রপ্তানি ৫০ বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করেছে। কিন্তু রপ্তানি উপাত্ত সমন্বয়ের পর দেখা যাচ্ছে যে, হাফ সেঞ্চুরি পার করতে আরও অনেক সময় লাগবে। রেমিট্যান্সও কোনো সুখবর বইয়ে আনছে না। ঈদে-চাঁদে এর পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও বেশিরভাগ সময় এর অবস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মতো; অনির্ভরযোগ্য। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেমিট্যান্স ও ফ্রিলান্সিং আয়। আবার একটা মহল চালাচ্ছে রেমিট্যান্সবিরোধী ক্যাম্পেইন।
বৈদেশিক মুদ্রার আরেকটা উৎস হলো ঋণ, অনুদান ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই। স্বল্পোন্নত দেশের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আমরা এখন স্নাতক হওয়ার পথে। কাজেই অনুদান নেই বললেই চলে। সাশ্রয়ী ঋণের পরিমাণও এখন অনেকটাই দুর্লভ। তবে নতুন স্নাতক দেশগুলোর স্বল্প কর্ষিত মাঠ ও বাজারে বিনিয়োগ থেকে ভুঁইফোড় মুনাফার আশায় এফডিআই প্রবাহ অধিকাংশ সময় বেড়ে যায়। কিন্তু দেশে আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগের যে পরিবেশ বিরাজমান, তাতে সে আশা কত দিনে পূরণ হবে, তা কেবল ভবিষ্যৎই বলতে পারে। এদিকে দেশে ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে সুদাসল পরিশোধের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত মিলে শুধু বৈদেশিক ঋণের সুদাসল বাবদ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার চলতি বছর পরিশোধ করতে হবে (ডিসেম্বর ২৩, ২০২৩, প্রথম আলো)। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের দায় আরও অনেক বেশি।
আর মাত্র দুবছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশ স্নাতক হয়ে যাবে। তখন উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় ধরনের দেশের সঙ্গে রপ্তানির বাজারে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে জায়গা করে নিতে হবে; এখনকার কোটামুক্ত ও শুল্কমুক্ত রপ্তানি রহিত হয়ে যাবে, প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় কমে যাবে। অথচ এই সুযোগের ভিত্তিতেই দেশের রাপ্তানিতে গতি এসেছিল। হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে দু-তিন বছরের জন্য এটা থাকতেও পারে। তবে তারপর কঠিন প্রতিযোগিতা অনিবার্য। তখন ইউরোপিয়ান বাজারে অনুরূপ আরেকটি সুবিধা ‘জিএসপি প্লাস’ পেতে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার ও মান, সুশাসন, পরিবেশ এবং জলবায়ু সংক্রান্ত অন্তত ২৭টি আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন ও পরিপালন করতে হবে। সরকার অবশ্য এ কাজে একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। আর উন্নয়ন সহযোগীরা মাঝেমধ্যেই সেটার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণ করে যাচ্ছে। সেখানে আমরা স্মার্টনেস কতটা দেখাতে পারব, সেটাও একটা প্রশ্ন বটে।
দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটা কর্মহীন প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী ৭৩.৭ মিলিয়ন মানুষ দেশের শ্রমবাজারে বিদ্যমান, এর মধ্যে ২.৬ মিলিয়ন বেকার, যাদের হার ৩.৫১ শতাংশ। তবে Statista-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৪ সালে দেশের শ্রমবাজারে রয়েছে ৭৮.২৬ মিলিয়ন মানুষ, আর তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৫.০৯ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের মাঝে বেকারত্বের হার বেশি। ফলে দেশের জনমিতিক সুবিধা গ্রহণ করা যাচ্ছে না, উল্টো রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে।
দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে এই সঙ্গিন পরিস্থিতি যখন বিদ্যমান, প্রয়োজন যখন দেশের সব নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নয়নের পথে আগুয়ান হওয়া, তখন দেখা দিল দুর্দমনীয় কোটাবিরোধী এই আন্দোলন। এখানে প্রাণহানি যেমন ঘটেছে, তেমনি ঘটেছে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। দেশের ভাবমূর্তি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেসামাল; মানুষ এ সময় বন্দি হয়েছে গৃহের অভ্যন্তরে, নিমজ্জিত হয়েছে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটে, কারফিউয়ের মধ্যে লাইন দিতে বাধ্য হয়েছে বিদ্যুৎ অফিসে। মেট্রোরেলের মতো জনতুষ্ট ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাফল্য চোখ ধাঁধানো; এ সময় দেশের জিডিপি বেড়েছে অব্যাহতভাবে, যদিও সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বৈষম্য, কমেনি বেকারত্ব। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এই পরিব্যাপ্তিতে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। মজার ব্যাপার হলো, এবার কোটাকেন্দ্রিক আন্দোলনের সময় এত যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলো, সেখানে এসব কর্মীদের মাঠে আদৌ দেখা মেলেনি। আবার শেষের দিকে যখন আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তখন মফস্বল অঞ্চলেও নেতাকর্মীরা ছিল নিষ্ক্রিয়। তারা ক্রিয়াশীল থাকলে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্দোলন থামানো ও ধ্বংসলীলা সীমার মধ্যে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু সেটা হয়নি।
আবার এই আন্দোলনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর ৩১৩টি স্থাপনার ওপর হামলা চালানো হয়। এই চার বাহিনীর ৩০০টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের ২৩৭টি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালানো হয় (জুন ২৬, ২০২৪, প্রথম আলো)।
আন্দোলন প্রশমনে ১৭ জুলাই থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন রাত থেকে সেলফোনের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ডও। পুলিশ ও বিজিবি সফল না হওয়ায় ২০ জুন সেনাবাহিনী নামানো হয়। এ সময় দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের জন্য রাত-দিনের কারফিউ জারি করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা নেওয়া হয়। তাতে সাফল্য আসে ঠিকই, কিন্তু যথেষ্ট সময় লেগে যায়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে পড়ে স্থবির। এই স্থবিরতা এখনো চলছে।
শাসক দল এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য বিএনপি-জামায়াত চক্রকে দুষছে; আন্দোলন ছিনতাই হয়ে যাওয়ার কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই চক্রটি শাসকগোষ্ঠীর চিহ্নিত শত্রু। উর্বর ক্ষেত্র পেলে তারা যে প্রতিপক্ষের হাত শক্তিশালী করবে, তাতে তো সন্দেহ থাকার কথা নয়। এই দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চলাকালে তারা বা তাদের প্রশাসন কি এটা বুঝে উঠতে পারেনি, নাকি এর পেছনে ছিল অন্য কোনো গূঢ় রহস্য, যার কারণে নিজ দলের কর্মীরা পর্যন্ত শম্বুক আচরণ করেছেন শাসক দলকে নির্মোহভাবে এ প্রহেলিকার ব্যবচ্ছেদ করতে হবে, করতে হবে আত্মানুসন্ধানও। অর্থনীতির ক্ষেত্রে দেশের সামনে যে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ বিরাজ করছে, সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য মানুষকে আস্থায় নিয়ে সামনে এগোতে হবে।
দেশের উন্নয়নকে টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সেটাকে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করা প্রয়োজন। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন মানুষের মনে ধারণা জন্মাবে যে, কেউ উন্নয়নের সুফল ভোগ করা থেকে বঞ্চিত হবেন না। অংশীদারত্বের এই অনুভূতি সরকারি সম্পদ রক্ষায় মানুষকে করবে কৃত ও সমর্পিত। ১৯৬৯ সালে জাতীয় নির্বাচনের অব্যবহিত পরে মালয়েশিয়ায় এক ভয়াবহ দাঙ্গা হয়, যেখানে স্বল্পসময়ের ব্যবধানে ১৯৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারত্ব ও সম্পদের মালিকানায় ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নিয়ে ভূমিপুত্র ও চীনা বংশোদ্ভূত মালয়-অভিবাসীদের মাঝে বিরাজমান চাপা উত্তেজনা। এই দাঙ্গার পর সেখানে নতুন অর্থনৈতিক নীতি (NEP) গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময় জাতিগত সংহতি উন্নয়নের জন্য সেখানে Satu Malaysia বা ‘এক মালয়েশিয়া’ স্লোগান প্রবর্তন করা হয়। তা ছাড়া, উন্নয়নের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে কুশীলবদের আচরণ ও কৌশলের উৎকর্ষ সাধনও অপরিহার্য। What Got You Here Won’t Get You There শিরোনামে Marshall Goldsmith লিখিত একটা বই পড়েছিলাম। করপোরেট জগৎ নিয়ে লেখা স্বব্যাখ্যাত এই নীতিটা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে হয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের কাছ থেকে দূরদৃষ্টি ও সুবিবেচনা প্রত্যাশা করছি।
লেখক: খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কলামিস্ট
