হাইকোর্টকে রাষ্ট্রপক্ষ

রিমান্ডে নেওয়া হবে না ১৭ বছর বয়সী ছাত্রকে

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪৫ এএম

কোটা আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ সদস্য গিয়াস উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার এইচএসসি প্রথম বর্ষের ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্রকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ডে নেওয়া হবে না বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। গতকাল রবিবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত শনিবার ঢাকার একটি আদালতে ঢাকা কলেজের প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে হাজির করা হয়। মামলার এজাহারে তার বয়স উল্লেখ করা হয় ১৯ বছর। তবে, তার আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ২০২৪ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের অনলাইন কপি অনুযায়ী এ শিক্ষার্থীর জন্ম ২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ৩ মাস।

শুনানি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অন্য আসামিদের সঙ্গে এ শিক্ষার্থীকে পুলিশের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল সংশ্লিষ্ট আদালতে বয়সের তথ্যপ্রমাণ দাখিলের পর আদালত তার রিমান্ড স্থগিত করে তার বয়স নির্ধারণ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য শিশু আদালতে পাঠায়। একই সঙ্গে শিশু আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী এ শিক্ষার্থীকে শিশু ঘোষণা করে তাকে শিশু আইন অনুযায়ী আইনগত সুযোগ-সুবিধা দিতে ঢাকার ৩ নম্বর শিশু আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানি নিয়ে শিশু আদালতের বিচারক মোসা. রোকসানা বেগম তার রিমান্ড বাতিল করে তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।

এই ছাত্রকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নিয়ে যাওয়ার একটি ছবি গতকাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সকালে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। আদালত তাকে এ বিষয়ে রিট আবেদনের পরামর্শ দেয়। বেলা ৩টার পরে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন ড. শাহদীন মালিক। এ সময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এই শিক্ষার্থীকে রিমান্ডে নেওয়া হবে না।’

আদালত এ সময় জানায়, এই শিশুর বাবা-মা আদালতে কোনো আবেদন করে থাকলে তা যেন শিশু আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।

আইনজীবী শাহদীন মালিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশু আইনে আইনের সঙ্গে সংঘাতে আসা শিশুদের বিষয়ে স্পষ্ট কতগুলো নির্দেশনা দেওয়া আছে। কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সেই ব্যক্তির বয়স ১৮ বছরের বেশি। রিমান্ডের বিষয়ে ফৌজদারি আইনে বলা আছে। আইন অনুযায়ী কোনো শিশুকে হাতকড়া বা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না। কিন্তু পদে পদে শিশু আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে। আদালত বক্তব্য শুনেছে। রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে না।’ আজ সোমবার রিট আবেদনের ওপর আরও শুনানি হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত