অমিতশূন্যতার দুই বছর

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৯ এএম

শূন্যতা এক অপরিসীম শক্তি। অমিত হাবিব এমন এক নাম, যার না থাকা আরও বেশি করে থাকা। চেতনায় আদর্শে মননে মর্মে তিনি থাকেন। পেশাদার সাংবাদিকতার অনন্য ব্যক্তিত্ব দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবের চলে যাওয়ার পার হলো দুই বছর।

সেদিন ছিল ২৮ জুলাই ২০২২। চলে গেলেন মাত্র ৫৯ বছর বয়সে।

তার হাত ধরে বাংলাদেশে শত শত পেশাদার সাংবাদিক তৈরি হয়েছেন। আধুনিক, মননশীল ও নতুন যুগের সাংবাদিকতায় তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। বেঁচে থাকলে দেশের গণমাধ্যমকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন। তার অকাল প্রয়াণ দেশের গণমাধ্যম শিল্পের বড় ক্ষতি। সেই অমিত সম্ভাবনা সেই অমিত শূন্যতার দুই বছর পার হলো।

সাংবাদিক গড়ার কারিগর অমিত হাবিবের ৩৬ বছরের কলম হয়তো থেমে গেছে কিন্তু তার আদর্শের কলম চলমান। তার আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ রূপান্তর।

স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিলেন দেশ রূপান্তর। ‘আমার কিছু কথা আছে’ শিরোনামে প্রথম সংখ্যায় লিখেছিলেন ‘আমি কথা দিচ্ছি, শুরুর দিন থেকেই আমাদের চেষ্টা চলমান থাকবে। পাঠকরা আমাদের সঙ্গে থেকে আমাদের গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় শক্তি ও সাহস জোগাবেন।’

দেশ রূপান্তর নিয়ে কাজ বাকি ছিল আরও। স্বপ্ন ছিল। সময় বাধা দিল। ৫৯ বছর যে কারও চলে যাওয়ার জন্যই কোনো বয়স নয়। আর তার মতো মানুষের যিনি কি না একা বাঁচতেন না, অন্য অনেককে বাঁচিয়ে রাখতেন। চলতেন যতটা চালাতেন তার চেয়ে বেশি। না, এটা একজনের মৃত্যু নয়। একটা প্রজন্মের ক্ষয়ে যাওয়ার ক্ষতি।

২০২২ সালের ২৮ জুলাই নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। এর সাত দিন আগে সম্পাদকের চেয়ারে বসেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন তিনি। প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর বিআরবি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সেখান থেকে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অমিত হাবিব ১৯৬৩ সালের ২৩ অক্টোবর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম খন্দকার ওয়াহেদুল হক। মায়ের নাম শামসুন নাহার বকুল। দুজনই প্রয়াত। তার বাবা মহেশপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওয়াহেদুল হকের তিন সন্তানের মধ্যে অমিত হাবিব ছিলেন সবার বড়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত