যদিও শূন্যতা তবুও শক্তি কর্ম কোলাহলে আছ তুমি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪, ০৭:২১ এএম

শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবকে। সংবাদপত্র জগতের কিংবদন্তি, পেশাদার সাংবাদিকতার অনন্য ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকদের শিক্ষকখ্যাত অমিত হাবিবের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত রবিবার (২৮ জুলাই)। তার স্মরণে গতকাল সোমবার বিকেলে দেশ রূপান্তরের কনফারেন্স কক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মোস্তফা মামুনসহ পত্রিকাটির সব বিভাগের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। স্মরণসভায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা অমিত হাবিবের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

২০২২ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর বাংলা মোটরে দেশ রূপান্তরের কার্যালয়ে সম্পাদকের চেয়ারে বসেই গুরুতর অসুস্থ হন অমিত হাবিব। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে সাত দিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পার করে নিভে যায় তার জীবনপ্রদীপ। ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে সাংবাদিক মহলে। দুই বছর পরও সেই শোকের আবরণ কাটেনি। গতকাল স্মরণসভায় দেশ রূপান্তরের কর্মীরা শোনালেন অমিতশূন্যতার কথা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দেশ রূপান্তরের প্রধান প্রতিবেদক ও বিশেষ প্রতিনিধি আশরাফুল হক রাজীব। সম্পাদক মোস্তফা মামুন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা এমন একটি মানুষকে হারিয়েছি, যিনি শত সমস্যার মধ্যেও নিজের আত্মবিশ্বাস আর সিদ্ধান্তে অটল থাকতেন। যা বিশ্বাস করতেন তারই প্রতিফলন ঘটাতেন এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই তার বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত সফল হতো।’ তিনি বলেন, ‘অমিতদা ছিলেন অন্য সাংবাদিকদের চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের। প্রচারের এই যুগেও কোনো টকশোতে যাননি। পত্রিকায় লেখালেখি করেননি। একপ্রকার নিভৃতচারী ও অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ ছিলেন। জীবনযাপন খুব সাধারণ হলেও মেধা-মননে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন অনেককে।’ মোস্তফা মামুন আরও বলেন, ‘অমিতদার কর্ম ও তার স্মৃতি আমাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে যে, এখনো এই প্রতিষ্ঠাকেন্দ্রিক যেকোনো অনুষ্ঠান একটা পর্যায়ে তার স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।’ দেশ রূপান্তরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধু অমিতদাকে শ্রদ্ধা করে, তার প্রতি শোক জানিয়ে আমাদের দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার রেখে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা আরও বহুদূর নিয়ে যেতে চাই এবং যখন আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাব তখনই শুধু তার প্রতি বাস্তবিক শ্রদ্ধা জানানো হবে।’

দেশ রূপান্তরের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার হারুনের রশীদ বলেন, ‘অমিত হাবিবের রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করি। আমাদের লক্ষ্য এ প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়া। এর সাফল্য উত্তরোত্তর কীভাবে বাড়ানো যায়, এটিই হবে আমাদের লক্ষ্য।’

অপরাধ বিভাগের প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি সরোয়ার আলম বলেন, ‘অমিতদার সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলাম ২০০৫ সালে। একটা সুগভীর সম্পর্ক ছিল আমাদের। তার চিন্তা, চেতনা ও আদর্শকে এখনো ধারণ করে চলেছি। ভবিষ্যতেও তাই করতে চাই।’ বিশেষ প্রতিনিধি প্রতীক ইজাজ বলেন, ‘একই সঙ্গে মেধাবী সম্পাদক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন অমিত হাবিব। তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি ও তার সঙ্গে কাজ করেছি। এখনো তার শূন্যতা আমাদের হতাশ করে।’

সার্কুলেশন বিভাগের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম বলেন, ‘যখন এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আসি তখনই মনে হয়েছিল তিনি (অমিত হাবিব) অসাধারণ একজন মানুষ ও সম্পাদক। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা আমাদের জীবনের অন্যতম স্মৃতি হয়ে থাকবে।’ বিশেষ প্রতিনিধি পাভেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘অমিতদা এতটাই কর্মিবান্ধব ছিলেন যে, নিজের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতেও তিনি আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। কর্মীদের কাছে রাখা তাদের আকর্ষিত করার এক সম্মোহনী ক্ষমতা ছিল তার।’

দেশ রূপান্তরের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক জুয়েল মোস্তাফিজ বলেন, ‘অমিতদার সঙ্গে যতদিন কাজ করেছি কখনো অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়নি। কেননা জটিল সমস্যাগুলোকেও তিনি খুব সহজেই সমাধান করে দিতেন। কখনো কর্মীদের সামনে নিজেকে অন্যরকমভাবে উপস্থাপন করতেন না। তার মতো ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব এখনকার সময়ে বিরল।’ ফিচার বিভাগের সমন্বয়ক মোহসীনা লাইজু বলেন, ‘দীর্ঘদিন অমিতদার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে এবং মনে হয়েছে, শুধু সম্পাদক নয়, একজন অনন্য অভিভাবকের অধীনে কাজ করেছি।’

গ্রাফিকস ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অমিত হাবিব আমাদের হাতেকলমে শিখিয়েছেন। তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি, যা পেশাগত জীবনের অনুপ্রেরণা।’ নিজস্ব প্রতিবেদক সানমুন আহমেদ বলেন, ‘একজন জুনিয়র রিপোর্টারের সঙ্গেও অমিত হাবিবের আচরণ ছিল বন্ধুসুলভ।’

বক্তব্য শেষে অমিত হাবিব স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন সহসম্পাদক মুফতি আতিকুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত