ফখরুলকে কাদের

কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন তথ্য আছে

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৭:২১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নাশকতার নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে সব তথ্য সরকারের কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোথা থেকে নির্দেশ এসেছে, উসকানি এসেছে, কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, অর্থ জুগিয়েছেন, কোন কৌশলে অর্থ পাঠিয়েছেন সেটা আমরা জানি। মিথ্যার বেসাতি করে, আবোল-তাবোল বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের যৌথসভায় এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। শোকের মাস আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাদের এ বৈঠক হয়।

যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া কী হবে, সেটা আইনগত দিক দেখেশুনে সরকার শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। কারণ আমরা আইনগত দিকটি ভালোভাবে দেখে নিতে চাই। যাতে কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এ অপশক্তি আর কোনো সুযোগ না পায়।’

সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাহলে কারা এই নারকীয় বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে? তাদের সঙ্গে আপনি (ফখরুল) জাতীয় ঐক্য করছেন। যারা কারাগারের অস্ত্র লুট করেছে তারা কি আপনার বন্ধু ও দোসর। সে জন্য আজ ইগনোর করছেন।’

সরকার অসহায় শিক্ষার্থীদের আটক ও নির্যাতন করছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যকে নির্লজ্জ মিথ্যাচার বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করছে। আমাদের জানামতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে না। নিরীহ ও সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’ 

প্রশ্ন করে কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলের কাছে সবাই নিরপরাধ, সবাই অসহায়। তাহলে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাল কারা। কারা অগ্নিসংযোগ করল, রাষ্ট্রের সম্পদ ভস্মীভূত করল। বাংলাদেশে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ কারা করেছে। আজ কথায় কথায় সরকার ও আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হয়। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, এ ঘটনাপ্রবাহে আমরা আক্রান্ত। আক্রমণকারী ছিলাম না। এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।’

কারফিউ মেনে চলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলীয়ভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি। কাদের বলেন, গুজব ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে হবে।

কোটা সংস্কারে নিহতদের স্মরণ করে মঙ্গলবার এক দিনের শোক পালনের কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা সরকারিভাবে শোক পালন, জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় নয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আগস্ট মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই এ শোকের মাস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকি।’

বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন প্রমুখ।

বক্তব্যের শুরুতে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন। আপনাদের কারও সংযোজন-বিয়োজন, সংশোধন থাকলে বলতে পারেন। সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন দরকার। সেটা উল্লেখ করতে কুণ্ঠিত হবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত