সন্তানের খোঁজে সংবাদ সম্মেলনে এসে আটক বাবা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৭:৩০ এএম

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ‘ব্লক রেইডে’ ধরপাকড়ের মধ্যে প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ রয়েছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া মাসরুর। পরিবারের দাবি, আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার মাসরুরের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকে পরিবার। এতে যোগ দিতে এলে তার ভাই ও বাবাকে তুলে নিয়ে যান ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ডিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির (ডিআইআইটি) শিক্ষার্থী মাসরুরের ভাই মেহেদী হাসানকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার বাবার ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

ডিবি লালবাগের ডিসি মশিউর রহমান বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের নাম করে পুলিশ সদস্য ও ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মাসরুর ও মুয়াজ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ওয়ারী ডিভিশনে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে আছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এ বিষয়ে জানতে ডিবির ওয়ারী জোনের এডিসি খন্দকার আরাফাত লেলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ডিবির লালবাগ জোনের ডিসি মশিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন।’

গতকাল ডিআরইউ এলাকায় থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসরুরের বড় ভাই মেহেদী হাসান ও তার বাবা আবুল হাসেম রিকশাযোগে ডিআরইউতে আসেন। তারা রিকশায় চড়ে ঠিক ৩টায় এসে ডিআরইউর সামনে নামামাত্র কয়েকজন ডিবি পুলিশ সদস্য তাদের ধরে গলিতে নিয়ে যান। এরপর সাদা মাইক্রোবাসে তুলে সেগুনবাগিচা এলাকা ত্যাগ করেন।

ডিবির সূত্রগুলোর দাবি, মাসরুর ও তার বড় ভাই মুয়াজ যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছেন, যার ভিডিও মাসরুর ধারণ করেন। তিনি ও তার ভাই এ হত্যায় নির্দেশ দিয়েছেন। তার বাবা-ভাইকে সেগুনবাগিচায় আটক করা হয়েছে। তারা পুরো পরিবার জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা।

ডিবির হাতে আটক হওয়া মেহেদী হাসান একটি লিখিত বক্তব্য নিয়ে এসেছিলেন। পরে সেটি সাংবাদিকদের তুলে দেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুলাই ডেমরা বড়ভাঙ্গায় ফজর নামাজের পর নিকটাত্মীয়ের বাসার নিচ থেকে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে মাসরুরকে নিয়ে যান। পরে পুলিশের কিছু সদস্য আত্মীয়ের (মাসরুরের মামা) বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন। মাসরুরকে কেন তারা বাসায় আশ্রয় দিয়েছেন এই অভিযোগে মামা, তার দুই শিশু-কিশোর সন্তান এবং ভাতিজাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডেমরা থানায় নিয়ে যান তারা। এরপর মাসরুরের মামা, তার সন্তান এবং ভাতিজাকে সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সাজানো মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু মাসরুরের কোনো খোঁজ থানায় পাওয়া যায়নি। পাঁচ দিন হয়ে গেলেও তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আশপাশের সব থানায় যোগাযোগ করেও তার ব্যাপারে কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সে কোথায় কী অবস্থায় আছে, পরিবারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত