ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পর্যায়ক্রমে এই আন্দোলন দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এখন শুরু থেকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা ভূমিকা নিতে পারতেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতেন তাহলে এই আন্দোলন সেখানেই থেমে যেত। কিন্তু উপাচার্য থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোনো ইতিবাচক ভূমিকা চোখে পড়েনি। তাদের ব্যর্থতার কারণেই শিক্ষার্থীদের রাগ ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আমরা ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা দেখেছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ দেখেছি। শিক্ষকরা কখনো আন্দোলন বেগবান করেছেন আবার কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করেছেন। অথচ এবার উপাচার্যরা হল বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেছেন। তারা এখন অনেক বেশি দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে গেছেন।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় কোটা আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপ করেন সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সারা দেশে যে আন্দোলন চলছে তার দুটি দিক আছে বলে মনে করেন রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, একদিক থেকে এই আন্দোলন শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে বিএনপি জামায়াতের তাণ্ডব। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি জামায়াত শুরু থেকেই এই আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছিল। তারা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ রাগ ও বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিল।
চলমান আন্দোলনের সমাধান কোনপথে এমন এক প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের মীমাংসা করতে হবে। সরকার যেহেতু নীতি নির্ধারক ও নিয়ন্ত্রক সুতরাং আলোচনার উদ্যোগটা সরকারকেই নিতে হবে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, শুরু থেকে বলা হচ্ছে আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত শিবির অনুপ্রবেশ করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিএনপি ও জামায়াত আলাদা কীভাবে করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা খুবই সহজ কাজ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাদের আচার আচরণ ও গতিবিধিই বলে দেবে কারা শিক্ষার্থী আর কারা দুষ্কৃতিকারী। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিএনপি জামায়াতের আচরণে তফাত আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। তারা নিশ্চয় সরকারি ও জন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায়নি। তারা বিটিভিতে আগুন দেয়নি, মেট্রোরেলে ভাঙচুর করেনি। এই কাজগুলো করেছে আন্দোলনে ঢুকে পড়া দেশ বিরোধী বিএনপি জামায়াত অপশক্তি।
তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছে বিক্ষোভ করেছে হয়তোবা দুই একটা জায়গায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এর বাইরে তারা কিছু করেনি বলেই আমার মনে হয়।
গণগ্রেপ্তার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি আগেই বলেছি গণগ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। ফুটেজ দেখে যারা সহিংসতা চালিয়েছে দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে কেবল তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আগে চিহ্নিত করতে হবে আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করা জামায়াত বিএনপি ও অপশক্তিকে। কিন্তু কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।
