বিদেশি মুদ্রার ভুল ও বিলম্ব রিপোর্টিংয়ে বিপাকে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকের ব্যালান্স অব পেমেন্ট হিসাবায়ন এবং মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা এড়াতে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের আট কর্মঘণ্টার মধ্যে ড্যাশবোর্ডে তথ্য প্রদান করার জন্য অনুমোদিত ডিলার ও তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগ থেকে দেওয়া প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানির ক্ষেত্রে চুক্তি বা ঋণপত্র স্থাপন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চুক্তি বা ঋণপত্র প্রাপ্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় যেকোনো মূল্য পরিশোধ ও প্রাপ্তির ৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে ড্যাশবোর্ডে তথ্য প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি ড্যাশবোর্ডের বিভিন্ন মডিউলের নির্ধারিত টেমপ্লেটে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করতে হবে। রিপোর্টিং তদারকির জন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফরেন এক্সচেঞ্জ ড্যাশবোর্ডে রিপোর্টিং বিষয়ে ইতিপূর্বে জারী করা সব সার্কুলার, সার্কুলার লেটার ও অন্যান্য নির্দেশনা যথারীতি বলবৎ থাকবে এবং পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ফরেন এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের যাচিত তথ্য, বিবরণী, নথিপত্র ইত্যাদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকতা নিশ্চিতপূর্বক প্রেরণ করতে হবে। এ প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত নির্দেশনা অনুমোদিত ডিলার ও তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
এর আগে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে বন্ধ থাকে ইন্টারনেট। সাধারণ ছুটির কারণে বন্ধ থাকে ব্যাংক। গত ২৪ জুলাই (বুধবার) ব্যাংক খুললেও ১৩-২৬ জুলাই পর্যন্ত রেমিট্যান্সের তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বেশ সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে গত ২৮ জুলাই প্রবাসী আয়ের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়।
তারও আগে বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পণ্য রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে গরমিল ১ হাজার ৮১ কোটি ডলারের গরমিল পাওয়া যায়। যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে গত মে পর্যন্ত সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৭৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। যদিও ইপিবি গত মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বরাত দিয়ে প্রকাশ করা তথ্যে দাবি করে, ১১ মাসে (জুলাই-মে) রপ্তানি আয় হয়েছিল ৫ হাজার ১৫৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, শুধু গত মে মাসে ৪০৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। ইপিবির হিসাবে, গত মে মাসে ৪০৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি ২০২৩ সালের মে মাসের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম।
পণ্য রপ্তানির তথ্যে গরমিলের বিষয়টি ৩ জুলাই সামনে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা বলেছে, এত দিন ইপিবির পরিসংখ্যান ধরে রপ্তানির হিসাব করা হতো। তবে সে অনুযায়ী দেশে রপ্তানি আয় আসছিল না। এ নিয়ে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। পরে সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে প্রকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এনবিআরের তথ্যে একই রপ্তানির পরিসংখ্যান বারবার দেখানোসহ কয়েকটি কারণে আয় বেশি দেখাচ্ছিল।
