কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে উল্লখ করে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বুধবার ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে আলোচনায় ইইউর বহিঃসম্পর্কবিষয়ক মহাসচিব স্টিফানো সেনিনো বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি সংকট নিরসনে সংলাপেরও আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে নতুন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে ইইউ। আসছে সেপ্টেম্বর মাসে এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। গতকাল ইইউর ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মুখপাত্র নাবিলা মাসরালি গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বেলজিয়াম সফররত হাছান মাহমুদের সঙ্গে ব্রাসেলসের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে ইইউ সদর দপ্তরে বৈঠক হয় স্টিফানো সেনিনোর। এ বৈঠকের পর স্টিফানো সেনিনো নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইট) এক পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে গভীর উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমি আন্দোলনে যুক্তদের সঙ্গে আচরণের জবাবদিহি নিশ্চিত ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছি। মানবাধিকার বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের একটি মৌলিক উপাদান।’
অংশীদারত্ব চুক্তি আলোচনা স্থগিত : বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিতের বিষয়ে ইইউর ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগের মুখপাত্র নাবিলা মাসরালি গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে এ আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। আলোচনার জন্য নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ইইউ অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আওতায় একটি দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্য ছিল এ চুক্তির অধীনে। ইইউ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ২০ দশমিক ৭ শতাংশই হয়েছে ইউরোপীয় এই ব্লকের সঙ্গে।
স্বাধীন তদন্তের আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার : কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে দেশটি। ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন গতকাল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে।
