‘ভয়হীন ন্যায্য মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ চাই’, ‘সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করো’, ‘হত্যা, সহিংসতা, গণগ্রেফতার, হয়রানি বন্ধ করো’— এরকম স্লোগানে কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ফার্মগেট এলাকায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিল্পী থেকে শুরু করে নির্মাতারা জড় হতে থাকেন। প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেন দেশের চলমান অরাজকতা, হত্যা, গুম, পুলিশের আটক অভিযানের বিরুদ্ধে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমরা রক্তপাত চাই না, আমরা শান্তি চাই। এসবের বাইরে থাকতে চাই।’
এসময় আজমেরি হক বাঁধন বলেন, ‘আমি তো শুধু অভিনেত্রী নই। এর বাইরেও আমি একজন মা, একজনের সন্তান এবং এই দেশের একজন সচেতন নাগরিক। যে বাচ্চাটা ছাদে খেলতে গিয়ে খুলি খেয়ে মরে গেলো, সে তো আমারও মেয়ে হতে পারতো। তখন কি আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে এর বিচার চাইতাম না? যে হত্যাকাণ্ড ঘটে গেলো এবং ঘটছে, সেটির বিচার কি আমি চাইবো না? যদি না চাই, তাহলে তো আমি এই রাষ্ট্রের কেউ না। অথবা বোধশূন্য অমানুষ। আমার মনে হয়েছে, এর প্রতিবাদ করা উচিত। না করলে কাল যখন আমার মেয়েটা গুলি খেয়ে মরে পড়ে থাকবে, তখন অন্য কেউ আমার পাশে দাঁড়াবে না। এবং এই গুলি চলতেই থাকবে। সেই বিবেচনায় বলা যায়, আমি আমার স্বার্থেই রাজপথে নেমেছি। এর বিনিময়ে আমাকে যত মূল্য দিতে হয়, দিবো। কিন্তু আমার কণ্ঠ থামাব না।’
গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক- এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সেখানকার চারপাশ। তা ছাড়া বিভিন্ন গান গেয়েও নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্লোগানে স্লোগানে হয়রানি বন্ধে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন মামুনুর রশিদ, আকরাম খান, নূরুল আলম আতিক, আজাদ আবুল কালাম, হাসান, আজমেরী হক বাঁধন, পিপলু আর খান, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, মুনেম ওয়াসিফ, ঋতু সাত্তার, তাসলিমা আকতার লিমা, তানিম নূর, সৈয়দ আহমেদ শাওকি, ওয়াহিদ তারেক, রেদওয়ান রনি, আমিরুল রাজিব, নুসরাত ইমরোজ তিশা, মোশাররফ করিম, সিয়াম আহমেদ, আশফাক নিপুণ, রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা, নাজিয়া হক অর্ষা, তানজিম ওয়াহাব, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর আহসান, ইয়াছির আল হক, শঙ্খ দাশগুপ্ত, সাবিলা নূর, নাসিফ আমিন, তাসনিয়া ফারিণ, নীল হুরের জাহান, নাঈমা তাসনিম, হুমাইরা বিলকিস, শিবু কুমার শীলসহ অনেকে। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
এ সময় তারা আরও বলেন, সব হত্যার হিসাব ও বিচার করা, গুলি ও সহিংসতা বন্ধ, গণ-গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতে দাঁড়াতে এখানে এসেছি। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের বিচার ও হত্যা, সহিংসতা, গণগ্রেফতার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
বৃহত্তর চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, থিয়েটার, গণমাধ্যমসহ দৃশ্যমাধ্যমের নানা শাখার কর্মীরা ‘দৃশ্যমাধ্যম শিল্পীসমাজ’ ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে হত্যা, সহিংসতা, গণগ্রেফতার হয়রানির প্রতিবাদ করা হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিটিভি প্রাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে শিল্পীরা
পথে নামলেন মোশাররফ করিম, বললেন ‘রক্তপাত চাই না’