কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আটক হওয়া ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক ও গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আখতার হোসেনের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা ১৫ দিন ধরে দেখা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার (২ জুলাই) আখতারের পরিবারের পক্ষে স্ত্রী সানজিদা আখতারের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে পরিবার আখতারকে নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে আখতারের স্ত্রী বলেন, গত ১৭ জুলাই দুপুর তিনটায় আমার স্বামী ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক, ঢাকা জজকোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী আখতার হোসেনকে বিনা ওয়ারেন্টে কোন অভিযোগ ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে পুলিশ জবরদস্তিমূলকভাবে তুলে নেয়, যখন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। পরবর্তীতে ১৮ তারিখ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সম্পূর্ণ অন্যায্যভাবে তাকে ২ দিন রিমান্ডে পাঠায় মহামান্য আদালত। আমরা তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, আজকে ১৫ দিন আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারছিনা। দেখা করার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। বারবার দেখা করতে চেয়ে দেখা করতে পারি নি। তিনি কিভাবে আছেন, সুস্থ আছেন কিনা তার কিছুই জানা যাচ্ছে না। এমনকি জরুরি ওষুধও তাকে পৌঁছাতে পারছি না। গ্রেপ্তারের আগে থেকেই তিনি অসুস্থ। নিয়মিত ঔষধ খেতে হয় তার। বাহিরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। যা কারা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কারাগারে নয়, যেন নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে আখতার হোসেনকে। গত পনের দিনে তিনি ফোনকল করেন নি একবারের জন্যও। অথচ, ন্যুনতম ফোনকলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারা প্রত্যেক বন্দীর অধিকার। আমার স্বামী, আখতার হোসেনকে সেই অধিকারটুকুও দেয়া হচ্ছে না।
সানজিদা আরো উল্লেখ করেন, আমাদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয় নি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। আখতার হোসেন আমার একমাত্র সম্বল। আমি তার মুক্তি চাই। আপনারা তাকে আমার কাছে সহি সালামতে ফিরিয়ে দিন। আমরা শুনতে পাচ্ছি, তাকে জেলে ২৪ ঘণ্টা লকাপে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। আখতার হোসেন অসুস্থ। তার বাইরে হাঁটাচলা শারীরিক ভারসাম্যের জন্যে জরুরি। কোনো বন্দীকে এভাবে ২৪ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কক্ষে আটকে রাখা বেআইনি এবং বৈষম্যমূলক।
মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, আমার শাশুড়ি, আখতার হোসেনের মায়ের বয়স সত্ত্বরোর্ধ। ছেলের শোকে তিনি পাগলপ্রায়। তিনি যখন বলেন, আমার কলিজার টুকরা ছেলেকে এনে দাও, আমি তাকে কী বলে স্বান্তনা দিব? আখতার হোসেন সম্পূর্ণ নিরপরাধ। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সবার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। অন্যায়ভাবে বন্দী সকল ছাত্র-জনতার মুক্তি চাই।
