‘কত বার বারণ করেছি আজকে যাইস না যাইস না। কিন্তু কি করবে আমার ওষুধ ও ঘরের বাজার নাই। তাই পেটের দায়ের ভ্যান নিয়ে বের হইছিল। আমি কি জানতাম ছেলে আমাকে রেখে চলে যাবে পরপারে।’ এসব কথা বলে কেঁদে ফেললেন বাবা আবু হানিফ মিয়া। একমাত্র ছেলে সাগরকে হারিয়ে বর্তমানে পাগল প্রায় বাবা। কোটা সংস্কার আনন্দোলনে গত ১৯ জুলাইয়ের কথা বর্ণনা করে আবু হানিফ মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সাগর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করত। সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে তার অভাবের সংসার চলত। হাতে টাকা ছিল না তাই পেটের দায়ের ভ্যান নিয়ে বের হইছিল। এরপর আমি বিকেলে ফোনে বলেছিলাম বাসায় চলে আসার জন্য। আমাকে বলে, মিরপুর ১০ নম্বরে আছি চিন্তা করিও না। এখন যেতে পারব না, এখানে অনেক গোলাগুলি হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সন্ধ্যায় ফোন দিলে তার নম্বর বন্ধ পাই। রাত ৮টার দিকে সাগরকে খুঁজতে বের হই। তখনও বাইরে টিয়ারশেল ও গোলাগুলি চলছিল। পরে মিরপুর ১০ নম্বরে গিয়ে সাগরের খোঁজ নিলে একজন একটি প্রাইভেট হাসপাতালে খোঁজ নিতে বলল। মিরপুরে যারা আহত হয়েছিল তাদের সবাই ওই হাসপাতালে আছে বলে জানায় সে।’
সাগরের বাবা আরও বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করলে তারা রাত ৩টার পর আমার ছেলের লাশ দেখায়। আমার ছেলের বুকে গুলি মেরেছে, বুক ফুটো হয়ে গেছে। আমার একটি মাত্র ছেলে তাকেও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিল। আমার পুরো সংসারটা শেষ হয়ে গেল।’
জানা যায়, নিহত সাগর মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের হানিফ মিয়ার একমাত্র ছেলে। বাবা, মা ও দুই বোন নিয়ে ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরে ভাড়া বাসায় থাকত সাগর। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সবজি বিক্রি করে কিডনি রোগী বাবার চিকিৎসা ও সংসারের ব্যয় চালাত সে। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বরে সাগর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে সাগরের মরদেহ দেবিদ্বারে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ইউএনও নিগার সুলতানা বলেন, আমি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে সরকারি সহযোগিতা তুলে দিয়েছি।
