বর্তমান সরকারের কাছে ছাত্র-জনতা হত্যার বিচার দাবি নয় বরং সরকারেরই পদত্যাগ দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। তারা বলছেন, নতুন সরকারেরই এসব হত্যার বিচার করবেন।
শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি এবং সরকারের পদত্যাগ দাবিতে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সমাবেশের আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে হত্যা-নিপীড়নের প্রতিবাদে ভিসি চত্বর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত র্যালি করে সাদা দল।
সমাবেশে সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আজকে আন্দোলন যে পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে এই মূহুর্তে ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার আমরা এই সরকারের কাছে চাই না। যারা হত্যা করেছে তাদের কাছে হত্যার বিচার চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া এই সরকারের কাছে কোনো আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের দাবিও আমরা জানাই না। কারণ তারা যে কমিটি করবে সেটাতেও তাদের বেহায়া বাহিনী রাখবে। যাতে করে এই তদন্ত যথাযথ না হয়। এই আন্দোলনে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যে নির্যাতন হয়েছে, যে গণহত্যা করেছে তাতে করে সরকারের কাছে বিচার চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নাই। এই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।
যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আর কোনো রক্তের হলি খেলা নয়। আমাদের এক দফা এক দাবি এই স্বৈরাচার সরকারের পদত্যাগ। এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ নয়। যারা ছাত্র-শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে পারবে না তাদের প্রশাসনে থাকারও যৌক্তিকতা নেই। আমরা হুঁশিয়ারি করছি এই ক্যাম্পাসের আর কোনো ছাত্র শিক্ষককে হয়রানি করার সাহস যেন কেউ না দেখায়।
সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সরকার এই লাশের উপর দিয়েও থাকতে চাচ্ছে কিন্তু এই সুযোগ নেই। এটা বিএনিপি জামাতের আন্দোলন মোটেই না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি। তাজা প্রাণ রাষ্ট্রের সম্পদ। কয়টা, বাড়ি, গাড়ি রাষ্ট্রের সম্পদ নয়৷ হেলিকপ্টার থেকে বিএনপি-জামাত গুলি করে নাই। কারা এই গুলি চালিয়েছে তা জনগণ জানে। আমরা চাই এই স্বৈরাচারের পদত্যাগ।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে ইতিহাসের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। সরকার তাদের রক্ত নিয়ে এখনো হাসছে। শিক্ষার্থীদের আর গুলি চালাবেন না। গণহত্যার দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব দরকার। জাতিসংঘের তদারকিতে সুষ্ঠু তদন্ত হতে পারে। এ সরকারের কাছে আমরা বিচার প্রত্যাশা করি না। খুনি কখনো বিচার করতে পারে না।
