বাংলাদেশে চলমান গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তার দেশ ছেড়ে যাওয়ার খবর ফলাও করে সংবাদ প্রচার করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম চার থেকে পাঁচটি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সংবাদমাধ্যমটি সবার আগেই নিশ্চিত করে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ১৫ বছরের শাসনামলের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, সেনাবাহিনী একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করবে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্তির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।’
‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাবাহিনীর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি গত প্রায় ১০ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিষয়ক সংবাদ সরিয়ে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির সংবাদকে নিজেদের হোমপেজে লিড করে রেখেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা।’
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার পদত্যাগ করেছেন এবং দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে স্বাধীনতার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পর হাসিনা সরকারের পতন হলো।’
এএফপির খবরেও বোনকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ‘নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ ছেড়েছেন।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এএফপি বলেছে, ‘হাজারো মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়েছে।’
মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরের শিরোনাম ‘ব্যাপক অস্থিরতা মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিক্ষোভকারীরা তার সরকারি বাসভবনে তাণ্ডব চালিয়েছে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং সোমবার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এরপরই হাজার হাজার বিক্ষোভকারী তার সরকারি বাসভবন (গণভবন) এবং তার দল ও পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ভবনে হামলা চালিয়েছে’।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ‘দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাপ্রধানের।’ বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। সোমবার দুপুরে হাসিনার দেশত্যাগের পর গণভবন দখল করে নেয় ছাত্র-জনতা। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও দখল করে নেয় তারা। সেখানে তাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিচার চেয়ে স্লোগান দিয়েছে কেউ কেউ। এ সময় সেখানকার বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায় কাউকে কাউকে।’
আরেক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ‘দেশ জুড়ে সহিংস বিক্ষোভের নতুন ঢেউ উঠলে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোন রেহানাকে নিয়ে ঢাকার বাসভবন তথা ‘গণভবন’ ছেড়েছেন। তাকে কপ্টারে করে ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।”
এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট, সৌদি আরবের আরব নিউজ, তুর্কি বাতা সংস্থা আনাদোলু, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেসহ বিশ্বের প্রভাবশালী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি সংবাদ প্রকাশ করেছে।
