ঢাকায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু

বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না ইঞ্জিনিয়ার সুজনের

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪, ০১:৪৫ এএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের রূপপুর নতুনপাড়া মহল্লার মৃত আলহাজ আব্দুর রশিদ মাস্টারের ছোট ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সুজন মাহমুদের (৩৪) বিয়ের কথা ছিল আগামী ২৭ আগস্ট। তার আগেই গত সোমবার ঢাকার মিরপুর-২ এ পুলিশ ও ছাত্র-জনতার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। ফলে বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সুজনের।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রূপপুরের বাড়িতে নিহত সুজনের বোন রাবেয়া খাতুন বিলাপ করে বলছিল, কী দোষ ছিল আমার ভাইয়ের। তাকে কেন নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে মারা হলো।

শোকে স্তব্ধ সুজনের মা শামছুন্নাহার সন্তানের জন্য বারবার ডুকরে কেঁদে আল্লাহর কাছে বিচার চাচ্ছেন। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দাও। কী দোষ ছিল তার। সে তো কোনো অন্যায় করেনি। তাহলে তার প্রাণ কেন এভাবে কেড়ে নেওয়া হলো।

নিহত সুজনের মেজ ভাই সুলতান মাহমুদ বলেন, বিএসসি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ঢাকার একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুজন। মিরপুর-৬ এ ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সোমবার বিকেলে আন্দোলনে যোগ দিয়ে মিরপুর-২ এ যান। সেখানে পুলিশের গুলিতে আহত হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তার লাশ শাহজাদপুর উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের বড় ভাই শাহীন উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে।’

অপরদিকে গত সোমবার দুপুরে গাজীপুরের শফিপুর এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র আব্দুল আলিম অন্তর (২২)।

তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি শফিপুর এলাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। খবর পেয়ে স্বজনরা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সেদিন রাতেই তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কৈজুরি মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত