গণতন্ত্র ফিরলে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন : জয়

গন্তব্য এখনো অজানা

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৫৮ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেই ফিরে আসবেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এ কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদ্য সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের অবৈতনিক উপদেষ্টা জয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দ্রুত গণতন্ত্র ফেরাতে ভারতকে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে।

জয় বলেন, তার মা শেখ হাসিনা অবশ্যই বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। তবে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে ফিরবেন কি না এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে ছেড়ে যাবেন না, আওয়ামী লীগের কাউকেও ত্যাগ করবেন না।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সজীব ওয়াজেদ জয় এর আগে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যরাতে জার্মানভিত্তিক একটি টিভি চ্যানেলের বাংলামাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে জয় বলেন, বর্তমানে তার নিজের বা শেখ পরিবারের কোনো ব্যক্তির রাজনীতিতে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জয়ের এমন বক্তব্য নেতাকর্মীদের ভেতরে হতাশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে গত বুধবার রাতে দেওয়া অপর এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বলেছিলাম আমার পরিবার আর রাজনীতি করবে না। তবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর যেভাবে হামলা হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে দিতে পারি না। নতুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া সম্ভব না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জয়ের দেওয়া একেক সময়ে একেক অবস্থান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরা। এমন কয়েকজন নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিষ্কার কোনো দিকনির্দেশনা জানাতে না পারলে (জয়) বক্তব্য না দেওয়াই শ্রেয়।

এদিকে শেখ হাসিনা কোন দেশে আশ্রয় পেতে চলেছেন, ভারত সরকার এখনো তা জানে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তার পরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। তিনি কী করবেন, তাকেই ঠিক করতে হবে।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের আন্দোলন ও হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার আগে এই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই প্রধান বিবেচ্য। ভারতের আশা, কালক্ষেপণ না করে অতি দ্রুত এই প্রতিবেশী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া বাংলাদেশ তো বটেই, অঞ্চলের সবার জন্যও মঙ্গল।

কোটা আন্দোলন শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত শুধু বলেছিল, সে দেশে যা হচ্ছে, তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেছিল, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে ও শান্তি ফিরে আসবে। পালাবদলের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগী হয়ে ভারতে পৌঁছান। পরের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় সংসদে বিবৃতি দেন।

রণধীর জয়সোয়াল স্বীকার করেন, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে গতকাল জয়শঙ্করের কথা হয়েছে। সেই আলাপচারিতায় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়েছে। এই আলোচনার কথা জয়শঙ্কর নিজেই এক্স হ্যান্ডলে লিখে বলেন, ‘ডেভিড ল্যামি ফোন করেছিলেন। পশ্চিম এশিয়া ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে।’

জয়সোয়াল বলেন, ‘নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। স্বাভাবিকভাবেই অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন থাকব। আমাদের আশা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সেটা হওয়া দুই দেশ ও এই অঞ্চলের স্বার্থে জরুরি।’

সংখ্যালঘুদের রক্ষায় সে দেশের বহু গোষ্ঠী ও সংগঠন এগিয়ে এসেছে বলেও জয়সোয়াল মন্তব্য করেন।

পালাবদলের পর বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে লগ্নি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেওয়া ঋণের সদ্ব্যবহার ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হুমকির মধ্যে পড়বে কি না, জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে মুখপাত্র বলেন, লগ্নি ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর। সরকার গঠনের পর।

বাংলাদেশে পালাবদলের পেছনে আইএসআই ও যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে বলে শেখ হাসিনা যে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত