নতুন সরকারের শপথে স্বস্তি আওয়ামী লীগে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪, ০৫:০১ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের পর নেতৃত্ববিহীন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়া এসব নেতাকর্মী রাস্তায় বের হলে পিটুনিতে মারা যাওয়ার ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত সোমবার থেকে দেশে কার্যত সরকারবিহীন সহিংসতা বন্ধ হলেও হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং দলের কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় তারা নিজেদের অভিভাবকহীন মনে করছেন। এ নিয়েও তাদের ক্ষোভ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করছিল তাদের মধ্যে। তারা মনে করছেন, সরকার গঠনের পরে অন্তত পিটিয়ে বা কুপিয়ে হত্যার মতো নির্মম মৃত্যুগুলো বন্ধ হবে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতন সইতে মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। রাজি আছেন হামলা-মামলা ও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতেও। রাস্তায় পিটিয়ে মেরে ফেলার চেয়ে সেগুলো অনেক সহনীয় মনে করেন তারা। রাজনীতি করতে এসে পুলিশের নির্যাতন, মামলা এগুলো স্বাভাবিকও মনে করেন তারা। যেকোনো মূল্যে নিজে ও নিজের পরিবারকে বাঁচাতে চান ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়া আওয়ামী লীগের সবাই।

গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে অন্তত ৫০টি ফোন পেয়েছেন এ প্রতিবেদক। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যম সারির কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। বাকি সব ফোনই আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের। সবার কণ্ঠেই একই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তা হলো, রাস্তায় পিটুনিতে মৃত্যু নয়, আপাতত বেঁচে থাকা।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থককে রাস্তায় পিটিয়ে মারা হয়েছে। এটিই তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে। লুটপাট হয়েছে নেতাকর্মী, মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বাসাবাড়ি। লুটপাট-ভাঙচুরে আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ে দুশ্চিন্তা নেই। ধন-সম্পদ যায়, যাক! অত্যাচার-নির্যাতন, জেল-জুলুম ভাগ্যে যা জোটে জুটুক।

একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়া হতে পারে। আপাতত সব কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভূমিকা কী তা পরিষ্কার হতে চায় আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে নেতারা গ্রেপ্তারের শঙ্কায় আছেন। দুজন মধ্যম সারির নেতা নতুন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে অবস্থান না জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের ধরপাকড় শুরু হবে। তারা জানান, ধরপাকড় মেনে নিতে রাজি আছেন তারা। শুধু জীবনরক্ষাই একমাত্র লক্ষ্য তাদের।  

অন্যদিকে, সদ্যবিলুপ্ত সংসদের তিন সদস্যের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা বলেন, পরিস্থিতি এত তাড়াতাড়ি প্রতিকূলে চলে যাবে তারা বুঝে উঠতেই পারেননি। তাদের মনে হয়েছে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা যেকোনো মূল্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন। কিন্তু গত সোমবার থেকে তারা নতুন এক পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হলেন। যা নতুন এক নজির সৃষ্টি করেছে।

এক সংসদ সদস্য (এমপি) বলেন, সোমবার থেকে আমার, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের বাসাবাড়িতে হামলা, লুটপাট হয়েছে। অনেককেই মারধর করা হয়েছে। আতঙ্কে আছি। তারপরও চেষ্টা করছি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো ধরনের দিকনির্দেশনা দেননি। ফলে নিজেদের অভিভাবকহীন বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে হঠাৎ তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে গা ঢাকা দেওয়া আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা আর্থিক সংকটে পড়তে শুরু করছেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকেই জীবন-জীবিকা ও নিরাপদে থাকতে টাকা-পয়সার জন্য নেতাদের মোবাইলে খুদেবার্তা দিলেও কোনো সাড়া মিলছে না। কোটি কোটি টাকা বানানো নেতারাও দুর্দিনে সাড়া না দেওয়ায় অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয় কর্মীদের মধ্যে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত