বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত তৈরি পোশাক। এ খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি এস এম মান্নান কচির বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন সাধারণ সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিএমইএ সভাপতিসহ তার বোর্ড সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমান বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে গত ৪ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ওপর কচি নিজে অস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণ করেন। চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দমন-পীড়ন ও হত্যায় উত্তরা ও মিরপুরে কচির নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী মূল ভূমিকা পালন করে। এটি সব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এতে সদস্যরা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে বিজিএমইএ পর্ষদ নির্বাচনে এস এম মান্নান কচি ও তার দল অস্ত্র হাতে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সংগঠনটির ক্ষমতা দখল করেন। এ ভোট চুরিতে সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, মহিউদ্দিন, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামকে লজ্জাজনকভাবে নিজ বাহিনীসহ সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও এ দায় এড়াতে পারেন না।
বিজিএমইএ ছাত্রদের পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ তুলে স্মারকলিপিতে বলা হয়, চলমান ছাত্র আন্দোলনে কয়েকশ ছাত্র-জনতা নিহত হওয়ার পরও বর্তমান বোর্ড ও সভাপতি কোনো শোকবার্তা দেয়নি। ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও গণজোয়ারে বিজিএমইএ সভাপতি ও তার বোর্ড সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ভূমিকা পালন করায় তারা দায়িত্ব পালনের নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন।
সংকটে কারখানা খোলা নিয়ে সংগঠনটির কোনো সঠিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে বিজিএমইর মূল দায়িত্ব তথা ব্যবসা পরিচালনায় কার্যকর কোনো নির্দেশনা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট সকাল থেকে ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর দখলে নেয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নিখিল ও বিজিএমইএর সভাপতি কচির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। দুপুর ১টার দিকে কচি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে দাঁড়াবে তাকে শেষ করে দিতে হবে।’
দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্ররা মিরপুর-১০-এর চারদিক ঘেরাও করলে তার নেতৃত্বে গুলি চালায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতারা। এ সময় বহু ছাত্র আহত হয়। বিকেল ৪টার দিকে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় পুলিশ।
বিজিএমইএতে হট্টগোল : এই সদস্যরা স্মারকলিপি দিয়ে কমিটি ভেঙে দিতে বর্তমান পর্ষদকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনায় বেশ হট্টগোল হয়। গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে সংগঠনটির নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরামের নেতাকর্মীরাই মূলত স্মারকলিপি দেন।
এতে বলা হয়, এই সহিংসতার প্রত্যক্ষদর্শী কর্মী এবং বোর্ড সদস্যরা হতবাক অবস্থায় রয়েছেন। তাছাড়া সেখানে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো যা একাধিক সাধারণ সদস্যকে ক্ষুব্ধ করেছে বিজিএমইএ। আমরা এই ধরনের নৃশংস আচরণের নিন্দা জানাই।
জানা গেছে, বুধবার পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন গত মার্চে অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর নির্বাচনে ফোরামের দলনেতা ফয়সাল সামাদ ও ওয়েগা নিটেক্সের চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আলী। বুধবার দুপুর ২টার দিকে সাধারণ সদস্যদের ব্যানারে ফোরামের শতাধিক নেতাকর্মী স্মারকলিপি দিতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে যান। প্রধান ফটকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। তখন তারা ‘সভাপতি কই’, ‘এমন বিজিএমইএ চাই না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম তাদের স্বাগত জানান।
কার্যালয়ে প্রবেশ করার পর সভাকক্ষে সাধারণ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বর্তমান পর্ষদের কিছু সদস্য। শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আবদুল্লাহ হিল রাকিবসহ পর্ষদের অন্যদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ফয়সাল সামাদ ও মেসবাহ উদ্দিন।
