এনজিওগ্রাম

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪, ০১:২১ এএম

এনজিওগ্রাম মানে আমরা অনেকেই মনে করি হার্টের রক্তনালি পরীক্ষা। প্রকৃতপক্ষে হার্ট ছাড়াও দেহের আরও কয়েকটি জায়গায় রক্তনালির অবস্থা বোঝার জন্য এনজিওগ্রাম করা হয়। শরীরের যেসব জায়গায় এনজিওগ্রাম করা হয় তাহলো হার্টের, পায়ের, হাতের ও ক্যারোটিভ ধমনি বা ব্রেন।

কীভাবে করা হয় : পরীক্ষার আগের দিন রোগীকে ভর্তি করা হয়। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে রোগীকে ল্যাবে নিয়ে কুঁচকির কাছে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে অবশ করে একটি সিরিঞ্জ দিয়ে ছোট একটা ছিদ্র করা হয়। এটা করা হয় ক্যাথেটার ঢুকানোর জন্য। নির্দিষ্ট অংশের রক্তনালিতে এনজিওগ্রাম সহায়ক রঞ্জক তরল পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। রক্তনালির ভেতরে রঞ্জক পদার্থের চলাচল বাইর থেকে মেশিনের সাহায্যে দেখা হয় ও ছবি তুলে রাখা হয়। প্রয়োজনীয় অংশের ছবি তোলা শেষ হওয়ার পর রোগীকে রুমে ফেরত পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ১৫-৩০ মিনিট সময় লাগে।

এ জন্য রোগীকে এক দিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। রোগীকে এনজিওগ্রাম করতে  শুধু স্থানীয়ভাবে অবশ করা হয়। এনজিওগ্রাম কোনো অপারেশন নয়। এটা রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি মাত্র। তবে অনেক সময় এনজিওগ্রাম করার সময় রিং বা স্টেন্ট বসিয়ে দিয়ে  রোগীর বন্ধ রক্তনালি সচল করা হয়। একবার এনজিওগ্রাম করার পর অপারেশন বা রিং বসানোর জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্তও অপেক্ষা করা যায়। এর থেকে বেশি সময় হয়ে গেলে পুনরায় এনজিওগ্রামের দরকার হয়। এনজিওগ্রাম করার পর একজন রোগী ৬ ঘণ্টা পরই চাইল বাসায় চলে যেতে পারবেন। তবে এক দিন হাসপাতালে থাকা ভালো।

কী কী সমস্যা হতে পারে : এনজিওগ্রাম করার ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক পদ্ধতি হলো হাতের রেডিয়াল ধমনি পথে এনজিওগ্রাম করা। কিন্তু কখনো কখনো এই পথে এনজিওগ্রাম করতে নির্ধারিত সময় গেলেও নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। এনজিওগ্রাম করার পর হাতে ভালো করে চাপ না দিলে ওই স্থান আস্তে আস্তে ফুলে উঠতে থাকে। হাত দিলে ফোলা জায়গায় ঝিঁঝিঁ অনুভূত হয়। ধমনি ও শিরার মধ্যে এনজিওগ্রামের পর অনিচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ স্থাপিত হলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। একে Iatrogenic Fistula  বলে। কখনো কখনো সংযোগ স্থাপিত না হয়েও ওই স্থানটি স্ফীত হতে পারে। একে K pseudoaneurysm বলে। তবে অপারেশনে এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা যায়।

আধুনিক পদ্ধতি : সিটি স্ক্যানারের সাহায্যে এনজিওগ্রাম করা যায়। এতে হাতে স্যালাইন দেওয়ার মতো করে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এটা প্রায় ব্যথামুক্ত এবং পরীক্ষা। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় না। এ ছাড়া ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স বা এমআরএ নামক আরেক ধরনের অত্যাধুনিক এনজিওগ্রাম রয়েছে। যা কিডনি রোগীদের করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত