দিনাজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গিয়ে গুলিতে আহত রাহুল নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
রাহুল সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিদুরশাই মহারাজপুর এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি রানীগঞ্জ এহিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাহুলের বড় ভাই আলামিন ইসলাম জানান, ৪ আগস্ট তার ভাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিছিলে ছিলেন। দুপুরের দিকে দিনাজপুর শহরের হাসপাতাল মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ অবস্থান নেয় পৌরসভা রেলক্রসিং এলাকায়। এ সময় শিক্ষার্থী-পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। তখন একটি কাঁদানে গ্যাসের শেল রাহুলের সামনে এসে পড়ে। পরে পুলিশের গুলিতে আহত হন রাহুল। আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শরীর থেকে গুলি বের করেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতাল থেকে রাহুলকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বুধবার বিকেল থেকে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সন্ধ্যায় তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আইসিইউতে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, রাহুলের ঊরুতে ছররা গুলির চিহ্ন আছে। তার শ্বাসকষ্টও ছিল। গত বুধবার আনুমানিক রাত ৮টায় অচেতন অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়। তার রক্তচাপ খুব কম ছিল, জ¦রও ছিল। মস্তিষ্কে ইনফেকশন ধরা পড়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাহুলের মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে রাহুলের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় গত ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৫১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
