৪০ পেরিয়েও অনন্য মিস্টার ‘থর’

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:০১ এএম

অজি অভিনেতা ক্রিস হেমসওয়ার্থকে অনেকেই চেনেন। তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে গেছে রুপালি পর্দার চরিত্রের কাছে। ‘থর’ নামেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তার। দুদিন আগে ৪০ পেরোনো অভিনেতার জন্মদিনে সেটা যেন স্পষ্ট হলো আবার। এই চরিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতাদের তালিকায় ঢুকেছেন ক্রিস।

১৯৮৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মা লিওনি ছিলেন ইংরেজি শিক্ষক। বাবা ক্রেগ হেমসওয়ার্থ ছিলেন সমাজসেবক। ক্রিস তার ক্যারিয়ার শুরু করেন বেশ কয়েকটি টেলিভিশন সিরিজের মধ্য দিয়ে। ২০০২ সালে ফ্যান্টাসি টেলিভিশন সিরিজ ‘গিনিভার জোনসের দুটি পর্বে রাজা আর্থার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে সোপ অপেরা সিরিজ ‘নেবারস’ এবং ‘মার্শাল ল’র মতো কিছু টেলিভিশন সিরিজেও দেখা যায় তাকে।

দুর্ভাগ্য হলো, এসব সিরিজে তার চরিত্র দীর্ঘ ছিল না। ছোট ছোট চরিত্রে দেখা যেত তাকে। পরে ২০০৪ সালে সোপ অপেরা ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’তে রবি হান্টারের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। ১৭১টি পর্বের পর ২০০৭ সালে সিরিজের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হয় তার। যদিও প্রথম থেকেই ক্রিসের মূল লক্ষ্য ছিল সিনেমা।

২০০৯ সালে সিনেমায় কাজ শুরু করেন ক্রিস। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘স্টার ট্রেক’। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সাফল্য পায়।

আলোচনায় চলে আসেন ক্রিস। একই বছর তিনি ‘অ্যা পারফেক্ট গেটওয়ে’ সিনেমায় অভিনয় করেন। ২০১০ সালে মুক্তি পায় স্টিফেন মিলবার্ন অ্যান্ডারসনের ‘ক্যাশ’। কিন্তু ক্রিসের ক্যারিয়ার পথ খুঁজে পায় ২০১১ সালে। সে বছর তিনি মার্ভেলের সুপারহিরো সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজি

‘থর’-এ অভিনয় করেন। সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে ঝড় তোলে। পরের বছর ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স-এ অভিনয় করেন ক্রিস, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যমাত্রা যোগ করে।

এরপর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে অভিনয় করেন ‘অ্যাভেঞ্জার্স : এজ অব আলট্রন’, ‘ইন দ্য হার্ট অব দ্য সি’, ‘ঘোস্টবাস্টারস’, ‘থর : রাগনারক’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স : ইনফিনিটি ওয়ার’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স : এন্ডগেম’, ‘মেন ইন ব্ল্যাক : ইন্টারন্যাশনাল’ ইত্যাদি সিনেমায়। এরপর আরও একটি বাঁক আসে ২০২০ সালে। স্যাম হারগ্রেভের ‘এক্সট্র্যাকশন’ সিনেমা দিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দেন ক্রিস। এটির বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের ঢাকাকে ঘিরে। নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর তুমুল আলোচিত হয় সিনেমাটি। কিন্তু এতে ঢাকাকে যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় সমালোচনা হয়।

অভিনয় দক্ষতার গুণে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ক্রিস। একবার টিন চয়েজ অ্যাওয়ার্ড, দুবার পিপল চয়েজ অ্যাওয়ার্ড, একবার এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে ক্রিস ২০১০ সালে বিয়ে করেন। স্প্যানিশ অভিনেত্রী এলসা পাটাকের সঙ্গে সুখের সংসার। তাদের তিন সন্তান। আগামীতে বেশ কয়েকটা সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত