বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব। সারা দেশে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছে, তাদের শাহাদাতকে অর্থবহ করার জন্য, তাদের আত্মত্যাগকে অর্থবহ করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।
গতকাল বুধবার রংপুরের পীরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর স্থানীয় জাফরপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সব জায়গায় নাগরিক কমিটি গঠন করতে হবে। নাগরিক কমিটি গঠন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবেন, বাংলাদেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা সবাই একসঙ্গে বাস করি, কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পীরগঞ্জবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আবু সাঈদ রংপুর রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র প্রাণ দিয়েছে, এই ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী খুনি সরকারের পদত্যাগের দাবিতে, তাদের পতনের দাবিতে সারা দেশে শত শত ছাত্র-নাগরিক বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে।’
মহাসচিব বলেন, ‘সাঈদের বাবা বোবা হয়ে গেছেন, মা কথা বলতে পারেন না, তাদের একমাত্র সন্তান, তাদের আশা ছিল এই সন্তান তাদের দুঃখ ঘোচাবে, ইংরেজি অনার্স পড়ত, টিউশনি করে পড়ত, অত্যন্ত মেধাবী ছেলে। তাকে কীভাবে একটা দেশের পুলিশ সরাসরি বুকে গুলি করে মারতে পারে। কী সাহসী ছেলে আবু সাঈদ, দুই হাত মেলে ধরে দাঁড়িয়েছিল গুলি করো, একটা গুলি খেয়ে দমেনি, আবারও গুলি খেয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুপুরে পীরগঞ্জের বাবনপুরে এসে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন।
এ দিকে গতকাল বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি নিজ বাসভবনে ফখরুল বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লব নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি চক্র সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ভারত গমনের নাটক সাজিয়ে প্রচার করতে এখন সক্রিয়। এদের কাছে সংবাদকর্মীদের প্রভাবিত না হওয়ার অনুরোধ জানাই।’
৫ আগস্টের পর কোথাও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করতে আওয়ামী লীগই সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করে গুজব ছড়াচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বর্ডার এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমি খবর নিয়ে দেখেছি, এটা একটি নাটকীয়তা। কারণ যারা চলে যেতে ধরেছিল তাদের হাতে কোনো কিছু ছিল না। এটা আওয়ামী লীগের একটি সাজানো নাটক। তারা ওই পারে দেখাতে চায় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা নির্যাতিত হচ্ছে। তবে দুই-একটা ঘটনার কিছু হতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের লোকেরা প্রতিটি সময় কাজ করে যাচ্ছে।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যদি প্রমাণ করা যায় কোনো হামলা কিংবা কোনো নাশকতায় আমাদের দলের কেউ জড়িত আছে, আমি ডিসি-এসপিদের বলেছি, তারা তাদের ব্যবস্থা নেবেন। সেই সঙ্গে আমরা আমাদের দল থেকে সঙ্গে সঙ্গে তাকে বহিষ্কার করে দেব। ইতিমধ্যে আমরা একটা করেছিও। কোনো ছাড় হবে না।’
