গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে সমিতি উধাও

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে নবরবি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি নামের একটি সংস্থা গ্রাহকদের সঞ্চয়ের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এনজিওর ম্যানেজার, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের খোঁজ মিলছে না। কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এনজিওর কার্যক্রম। ফলে টাকা ফেরত না পাওয়ার হতাশায় ভুগছেন শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক।

সম্প্রতি সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবিতে ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ভূঞাপুর কাঁচাবাজারে অবস্থিত নবরবি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা ছয় মাস আগে গ্রাহকদের কাছ টাকা আদায় শুরু করেন। প্রত্যেক গ্রাহকের কাছ থেকে তারা ১ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা নেন। এরপর প্রতি মাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করেন। এভাবে তারা শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে হঠাৎ করে সমিতির কর্মকর্তারা সাইনবোর্ড খুলে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান। এ সমিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন স্থানীয় মজনু মন্ডল, মোফাজ্জেল হোসেন মিঞ্জু ও আমিনুল ইসলাম। এই সমিতির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন হায়দার আলী।

পশ্চিম ভূঞাপুরের ভুক্তভোগী গ্রাহক জাকিয়া বলেন, ‘আমি কয়েক লাখ টাকা নবরবিতে সঞ্চয় রেখেছি। নবরবির ম্যানেজার হায়দার আলীর কাছে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না। এনজিওর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম ও মোফাজ্জেল হোসেন মিঞ্জুর কাছে গেলে তারা বলেন, ম্যানেজারের কাছে টাকা দিয়েছেন, তার কাছ থেকে বুঝে নেন।’

ভূঞাপুর পৌর এলাকার বিরামন্দী গ্রামের ভুক্তভোগী গ্রাহক ফাতেমা বেগমের ছেলে ফারুক বলেন, ‘নবরবিতে আমার মা ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে এনজিওর লোকজন ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন।’ এ ব্যাপারে জানতে ভূঞাপুরের নবরবি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির ম্যানেজার হায়দার আলীকে কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত এনজিওর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত