ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং সাবেক প্রধান নির্বাচক। নাজমুল হাসান পাপন এবং তার অনুচরদের নিয়ে পরিচালিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রবল সমালোচকদের একজন ফারুক। প্রধান নির্বাচক থাকা অবস্থায় কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে দল নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া সংক্রান্ত নিয়মের প্রতিবাদ করে পদত্যাগ করেছিলেন ২০১৬ সালে। স্বৈরশাসনের অপচ্ছায়ায় ঘুণ ধরেছিল বিসিবিতেও, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাপনসহ বেশ কিছু সংখ্যক বিসিবি পরিচালক এই মুহূর্তে পলাতক। দেশের ক্রিকেটের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহল থেকেও আইসিসির নীতিমালার ভেতরে থেকে ক্রিকেট প্রশাসনকে গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক ব্যাটসম্যান ফারুককে ফের দেখা যেতে পারে বিসিবিতে, এবং সেটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে।
বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ফারুক আহমেদের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছে। বৈঠকে বিসিবির গঠনতন্ত্রসহ আইসিসির বাধ্যবাধকতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রবিবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কথাতেও ছিল সেই ইঙ্গিত, ‘বিসিবি সভাপতি বা পরিচালকদের পদত্যাগে বিষয় আমি গণমাধ্যমে দেখেছি। আমি এ ব্যাপারে সরাসরি কিছু পাইনি। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে, সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গে; এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছানোর জন্য।’
এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনার কথা, ‘একটা বড় সম্ভাবনা আছে। তবে এখনো চূড়ান্ত না।’ তিনি বলেন, ‘বিসিবির যে গঠনতন্ত্র আছে সে অনুযায়ীই সব হচ্ছে... আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমি তো একটা নির্দিষ্ট কারণে বিসিবি থেকে সরে গিয়েছিলাম, সেই কারণটা তো এখন আর নেই। আর স্বাধীনভাবে যদি কাজ করার সুযোগ পাই তাহলে কেন নয়।’
এরই মধ্যে জানা গেছে, বিসিবির পরিচালকদের অভ্যন্তরীণ আলাপে উঠে এসেছিল পাপনের পদত্যাগ প্রসঙ্গ। তবে সংকটের শেষ এখানেই নয়। পাপন পদত্যাগ করলেই ফারুকের আসার পথ সুগম হবে না। কারণ বিসিবির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, ‘পরিচালনা পরিষদের পরিচালকদের মৃত্যু, পদত্যাগ, মানসিক ভারসাম্যহীনতা অথবা শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে পদ শূন্য হইবে। নির্বাচন পরবর্তীকালে কোনো পদ শূন্য হইলে সাধারণ পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির পদ উপ-অনুচ্ছেদ ১৩.২ (গ) অনুযায়ী পূরণ করিবে।’ নাজমুল হাসান পাপন প্রিমিয়ার লিগের দল আবাহনী লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৪ বছরের জন্য মনোনীত একজন কাউন্সিলর, তাই পাপন পদত্যাগ করলেই তার জায়গায় আরেকজন চাইলে বোর্ড পরিচালক হতে পারবেন না। সেই শূন্য পদে নির্বাচন হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবার জন্য প্রার্থীকেও ক্লাব কাউন্সিলর ক্যাটাগরিতে সাধারণ পরিষদের সদস্য হতে হবে।
তবে ফারুক আহমেদের জন্য অন্য রাস্তা খোলা আছে। বিসিবির ২৫ জন পরিচালকের ভেতর ২৩ জন আসেন নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। সিসিডিএম-এর অধিভুক্ত ঢাকার ক্লাবগুলোর প্রতিনিধি ১২ জন, আঞ্চলিক/বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন, নানান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ১ জন পরিচালক; এই ২৩ জন নিজ নিজ ক্যাটাগরি থেকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে আসেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাধারণ পরিষদের মধ্য থেকে যে কোনো ক্যাটাগরি থেকেই ২ জনকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করে পরিচালনা পরিষদের অংশ করতে পারে। ২০২১ সালের এনএসসির তরফ থেকে পরিচালনা পরিষদে এসেছিলেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম (ববি) এবং জালাল ইউনুস। তারা দুজনে যথাক্রমে টুর্নামেন্ট কমিটি এবং ক্রিকেট অপারেশন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশেই আছেন। এই দুজনের কেউ যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তাহলে একই ক্যাটাগরিভুক্ত সাবেক অধিনায়ক ফারুককে পরিচালক পদে মনোনয়ন দিতে আইনি বাধা নেই এনএসসির। এভাবে পরিচালনা পরিষদে আসতে পারেন ফারুক।
বোর্ড সভাপতি হওয়ার জন্য যে কাউকে প্রথমত পরিচালনা পরিষদের সদস্য হতে হবে। এরপর পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন করবেন। গঠনতন্ত্রে উল্লেখ আছে কোরাম পূরণ করতে এক-তৃতীয়াংশের উপস্থিতি প্রয়োজন অর্থাৎ ২৫ জন পরিচালক হলেও কমপক্ষে ৯ জন পরিচালকের উপস্থিতিতেই সভা করা সম্ভব। এর বাইরে অতি জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিলে ৩ কার্যদিবসের নোটিস প্রদান ছাড়া এবং কোরাম পূর্ণ না করেই সভা ডাকা সম্ভব। জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নিয়মিত সভায় উপস্থাপন করলেই হবে।
