পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক নয়

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৩১ এএম

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল-সংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন (২০১১) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুই তরুণ ভোটার জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমানের পক্ষে গত রবিবার এ রিট আবেদনটি করা হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী রিদোয়ানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফয়েজ আহমেদ।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এ সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করাসহ সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।

ড. শরীফ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ছিল। কারণ, এ ধরনের অনেকগুলো সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে গণভোটের কথা বলা আছে। কিন্তু গণভোট করা হয়নি। এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতাকে হ্রাস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের অনেকগুলো ধারার সংশোধন অযোগ্য করেছে। এতে করে যেটা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা সংসদ সদস্য হবে তারা সংশোধন করতে পারবে না। এভাবে ভবিষ্যৎ সংসদ সদস্যদের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত (ত্রয়োদশ সংশোধনী) একটি মামলার সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছিল পরবর্তী দুটি সংসদ নির্বাচন (দশম ও একাদশ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আপিল বিভাগের রায়ের পরিপন্থীভাবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। এটি আপিল বিভাগের রায়ের পরিপন্থী।’ তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীতে অনেক কিছু যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আজ (গতকাল) সংক্ষিপ্ত শুনানিতে সেগুলো তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। রুলের শুনানিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আইনজীবী বলেন, ১০ দিনের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলেছে হাইকোর্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত