বিএনপির সঙ্গে সুইস রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

পাচার করা অর্থ ফেরাতে সহায়তার আশ্বাস

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০৬:২০ এএম

পাচার করা অর্থ ফেরাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলির বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুইস ব্যাংকে পাচার করা অর্থ ফেরত আনাসহ সাংবিধানিক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুইস অ্যাম্বাসাডরের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রোডম্যাপ, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সার্বিক বিবেচনায় দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিএনপির মতামত জানতে চাইলে আমরা তা তুলে ধরেছি। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ যেসব রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে গেছে, সে জায়গায় ওরা (সুইজারল্যান্ড) কী করতে পারে, এ ব্যাপারে তা জানতে চেয়েছে।’

আমীর খসরু বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, বাংলাদেশ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পাচার হয়েছে। বাংলাদেশে আজকে অর্থনৈতিক অবস্থা, রিজার্ভের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা আমরা জানি। একটা কঠিন অবস্থা, তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) এত টাকা পাচার করেছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেকটি নাগরিক এটার অ্যাফেক্ট ফিল করছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড তাদের আগের অবস্থানে আছে। তারা বলেছে, এই টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের যেকোনো উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাবে এবং তারা সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি, আর্থিক খাত বলুন, রাজনীতি বলুন, নির্বাচনী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকভারি কীভাবে করা যায়। এগুলোর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কীভাবে করা যায়? প্রথমে এগুলো রেস্টোর করতে হবে, ট্র্যাকে আনতে হবে। পরে কীভাবে এগুলো একটা কার্যকর অবস্থানে নিয়ে আসা যায়? এগুলোর বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের এত সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, এত টাকা দেশের বাইরে গেছে, এগুলো আনতে না পারলে এই অর্থনীতিকে রিকভার করা খুবই কঠিন হবে। সুতরাং এই দিকটা তাদের সহযোগিতার দিকটা আমি মনে করি, তাদের আশ্বাস আমরা পেয়েছি। নিশ্চিতভাবে তারা সহযোগিতা করবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে এ কথা আমরা ১৬/১৭ বছর ধরে বলে আসছি। অর্থাৎ জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাছে জবাবদিহি থাকবে। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র। বর্তমানে একটা অন্তর্বর্তী সরকার কাজগুলো করবে। আমরা কোনো সময়সীমা তাদের বেঁধে দিইনি। তবে একটা যৌক্তিক সময় দিয়েছি। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচন হবে। এটা সবার প্রত্যাশা। অন্তর্বর্তী সরকারে যারা আছেন, তারাও কিন্তু এটা বিশ্বাস করেন। আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকরকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং দিয়ে যাব। কারণ দিনের শেষ তো আপনি জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত