পরিবহন সেক্টরে আর কখনো কোনো চাঁদাবাজির সুযোগ থাকছে না। যেকোনো মূল্যে বর্তমান সরকারের আমলে পরিবহনের নৈরাজ্য, অরাজকতা ও দখলদারিত্বের অবসান ঘটানো হবে। রাজধানী থেকে দেশের সর্বত্র পরিবহন পরিচালিত হবে একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও যাত্রী মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষায়। এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন কমিটি এসব কথা জানিয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর পরীবাগের বোরাক টাওয়ারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী দিনে পরিবহন খাতে সংস্কার ও অ্যাকশনপ্ল্যান তুলে ধরেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।
এতে বক্তব্য দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও আবদুল বাতেন। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আগামী দিনের টেকসই ও গণমুখী পরিবহন সিস্টেম চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অতীতে যখনই যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারাই পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লাগামহীন চাঁদাবাজি করেছে। এবার আর সে সুযোগ থাকছে না। একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে যাত্রী ও মালিকের স্বার্থ এবং অধিকার সংরক্ষণ করেই পরিচালিত হবে দেশের এ খাত। ঢালাওভাবে কেউ চাইলেই এখানে চাঁদাবাজি করে রাতারাতি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারবে না। এবারের জুলাই বিপ্লবের পর পরিবহনে আগের কমিটির লুটেরা চক্রের হোতারা গা-ঢাকা দেওয়ায় এ সেক্টর নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৪ আগস্ট তলবি সভায় সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ১৯ আগস্টের সভায় ঢাকা সড়ক পরিবহনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজিমুক্ত জনকল্যাণমুখী সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য সাতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করে যাত্রীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ সড়ক গড়া, সব টার্মিনালে খরচের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা, মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে জনকল্যাণমুখী সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ও প্রতিটি আঞ্চলিক কমিটিতে বৈধ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
এক প্রশ্নের জবাবে সাইফুল আলম বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস একসময় পরিবহন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন, যেহেতু তার গাড়ির ব্যবসা ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাতের অন্ধকারে তার সবগুলো গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ময়মনসিংহে দুটো গাড়ি ভেঙে স্ক্র্যাব হিসেবে বিক্রি করে দেয় চাঁদাবাজরা। তারপর থেকে তিনি আর কোনোভাবেই পরিবহনে যুক্ত নন। ভবিষ্যতেও থাকবেন না। যদিও কয়েকটি মিডিয়া এ নিয়ে গসিপ করছে। আসলে একসময় পরিবহনে যুক্ত ছিলেন বলেই এখনো সংগত কারণেই মিডিয়ায় তার নাম এসে যাচ্ছে।’
