মির্জা ফখরুল বললেন

আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা রোডম্যাপ দেবেন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০২:৪৫ এএম

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকায় আশাহত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আমি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে আছি। কারণ এটা এখনো পরিষ্কার হয়নি। আমরা আশা করেছিলাম, প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় একটা রোডম্যাপ দেবেন। ফর ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি’র রোডম্যাপ দেবেন। কিন্তু তার বক্তব্যের আমরা সেটি পাইনি। কোন কোন বিষয়ে রিফর্মস হবে, সেটার কিছু কিছু আভাস তিনি দিয়েছেন। আমি জানি, সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব না। তবে এ-সম্পর্কে একটা ধারণা থাকলে, বলা যেত ঘটনা আসলে ভালোর দিকে যাচ্ছে। যা-ই হোক, আমাদের প্রত্যাশা ভালোর দিকে যাক। জনগণেরও প্রত্যাশা এটা।’

গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান কাজী জাফরের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি (প্রধান উপদেষ্টা) সঠিক (কবে নির্বাচন হবে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত) বলেছেন। অবশ্যই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে। এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তো রাজনৈতিক নেতা, রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আশা করব, প্রধান উপদেষ্টা সেই প্রক্রিয়ার দিকে খুব দ্রুত যাবেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবেন।’

ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এখন অত্যন্ত ধৈর্য ধরে, সতর্কতার সঙ্গে পা বাড়াতে হবে। এই সরকার অবশ্যই কাজ করার জন্য এসেছে। সেই সুযোগ তাদের দিতে হবে, যৌক্তিক সময় অবশ্যই তাদের দিতে চাই। নির্বাচন ছাড়া তো কোনো কিছুই সম্ভব নয়। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও অবাধ হয়, সবাই ভোট দিতে পারে। নির্বাচনের ফলে আবার সেই আগের অবস্থা ফিরলে, কখনোই জনগণ তা মেনে নেবে না। সে জন্য ধৈর্য ধরে আমরা ও জনগণ অপেক্ষা করছি। সেই অপেক্ষা কিন্তু যৌক্তিক সময় পর্যন্ত।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, পুলিশ স্টেট যাতে কেউ বানাতে না পারে। আমরা এটাই চাচ্ছি। পুলিশ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রতিমুহূর্তে বলে দেবে, এটা করা যাবে, এটা করা যাবে না অথবা মিথ্যা মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে টাকার বিনিময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে করে সর্বনাশ করবে। অথবা আমাদের ছেলেদের গুলি করবে এটা আমরা আর দেখতে চাই না। পুলিশ রিফর্ম খুব দ্রুত চাই। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, জাস্টিস টু বি এনশিউর অল এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংস এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস। আমরা এটাই চাচ্ছি, বারবার করে বলছি এই বিচার করতেই হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা। সেগুলোকে অবিলম্বে তুলে ফেলতে হবে। পত্রিকায় দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টার মামলা ওঠানোর জন্য চলে গেছে। আরেকজন উপদেষ্টার মামলা ওঠানো হয়েছে, সাজা বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি বলেন, জামায়াত বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪৫ হাজার মামলা অবিলম্বে তুলে দিতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) সচিবালয় ঘেরাও করে আনসার এবং কিছু পোশাকধারী লোকজন। ছাত্ররা সেটাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। এটা কিন্তু অশনিসংকেত। পরাজিতরা আবার চক্রান্ত করছে বিজয়কে নস্যাৎ করার জন্য। এ বিষয়গুলো কখনোই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বায়ান্ন থেকে চব্বিশ পর্যন্ত ছাত্ররাই সব পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। মানুষ ছাত্রদের আলাদা চোখে দেখে, সম্মান করে, ভালোবাসে, তাদের প্রতি আস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষক হিসেবে আমি স্কুল-কলেজ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, অযথা বলপ্রয়োগ করে এমন অবস্থা তৈরি করবেন না, যাতে প্রশাসন নষ্ট হয়ে যায়। কিছু স্কুল-কলেজ বাধ্য করছে শিক্ষকদের রিজাইন করে চলে যাওয়ার জন্য। অভিযোগ প্রমাণ হলে তারা চলে যাবে। কিন্তু তাকে কাজ করতে দিতে হবে।’

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে দলের যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, প্রয়াত কাজী জাফরের বড় মেয়ে কাজী জয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত