খেয়াল খুশিমতো নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল সেই আইন বাতিল করে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে ২২ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ খসড়া অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে এখন থেকে গনশুনানির মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরে পেল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসি আইনে ৩৪ (ক) ধারা সংযোজন করে দাম নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় নির্বাহী বিভাগকে। গেজেটে ৩৪ (ক) ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গনশুনানির মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিলে সরকার। এতে অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধির সুযোগ ছিলে না। কিন্তু ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় (কম/বেশি) করার বিধান যুক্ত করে সরকার। তারপর থেকে বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই দফায় দফায় নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে শেখ হাসিনার সরকার। এতে জনজীবন অতীষ্ট হয়ে পড়ে।
বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে দাম চূড়ান্ত করায় বিতরণ ও সঞ্চালন কম্পানিগুলোর নানা রকম অসঙ্গতি সামনে আসত। এতে করে তাদের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়, যা দিনে দিনে একটি কালচারে পরিণত হতে যাচ্ছিল। সেই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাব ও অন্যান্যরা।
অন্তবর্তী সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সমন্বয়ের বিপক্ষে মত দেন। গত ১৮ আগস্ট তিনি বলেছিলেন, আপাতত নির্বাহী আদেশে আর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হবে না। দাম সমন্বয় করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে পাঠানো হবে। আর আইনটি সংশোধনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। এর মাত্র ৯ দিনের মাথায় বিইআরসি আইনের বিতর্কিত ধারাটি বাতিল হলো।
প্রাথমিকের বিতর্কিত ডিজির অপসারণে ২৪ ঘণ্টা অল্টিমেটাম