হবিগঞ্জে সংঘর্ষে আহত তিন শতাধিক

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০২:২৬ এএম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দিনের সংঘর্ষে তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা  থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এবং গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

আহতদের মধ্যে বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯০ জন ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ৫৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় তারা আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে মিরপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার মিরপুর বাজারে পাওনা টাকা নিয়ে উপজেলার লামাতাসি গ্রামের  আলফু মিয়ার সঙ্গে বানিয়াগাঁও গ্রামের আল আমিনের কথা কাটাকাটি হয়। বানিয়াগাঁও গ্রামের সাদ্দাম মিয়া বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আলফু মিয়ার লোকজন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে মিরপুর বাজারে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে লামাতাসি গ্রামের পক্ষে ৫ গ্রাম ও বানিয়াগাঁও গ্রামের পক্ষে ৮ গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পটকা ফোটানো হয়। একপর্যায়ে বশির প্লাজার সামনে থাকা একটি  মোটরসাইকেল ও কয়েকটি চেয়ার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মিরপুর বাজারের দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালায় সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ এবং  সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। 

মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মোতাব্বির হোসেন বলেন, সংঘর্ষে বাজারের অনেক দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ কামরুল ইসলাম, মিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, লামাতাসি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উস্তার মিয়াসহ স্থানীয় লোকজনের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে উভয় পক্ষের লোকজন বাড়ি ফেরে। স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মীরপুর বাজারে সালিশে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে  কে বা কারা ধাক্কা দিলে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসানের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থামে।

এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত