বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম উপাচার্য। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পদত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। সেদিন তিনিসহ আরও দুই উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার পদত্যাগ করেন। বিদায়ী উপাচার্য চলতি বছর ১১ মার্চ নিয়োগ পান ও ২৮ মার্চ উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নতুন উপাচার্যের নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে তার নিযুক্তির মেয়াদ চার বছর হবে; উপাচার্য পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন এবং তিনি নিয়মিত চাকরির বয়সপূর্তিতে মূল পদ থেকে অবসরগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন শেষে উপাচার্য পদের অবশিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করবেন; তিনি বিধি অনুযায়ী উপাচার্যের পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন; উপাচার্য হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮’-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী তার দায়িত্বাবলি পালন করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়, প্রজ্ঞাপন জারির পর গতকাল বিকেলে নতুন উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএসএমএমইউর ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিডি) সেলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে আইটি প্রতিষ্ঠা, প্রয়োগ এবং অন্তর্ভুক্তির মূল ব্যক্তি।
নতুন উপাচার্য জাতীয় ওষুধনীতি ১৯৮২ সমর্থন করেন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এরপর বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের টাস্কফোর্স, টেকনিক্যাল কমিটি এবং ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফর্মুলারি এবং বাংলাদেশ কোড অব ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং প্র্যাকটিসের অন্যতম লেখক। অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গত ৩২ বছর স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর মেডিকেল শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার বিভিন্ন গবেষণা অনুদান কমিটির সদস্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি, এমডি, এমফিল ডিগ্রির জন্য ৪০টিরও বেশি থিসিসের তত্ত্বাবধান করেছেন। তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে ৫০টিরও বেশি প্রকাশনা রয়েছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অধ্যাপক রহমানকে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) কর্র্তৃক সম্মানসূচক ফেলোশিপ (এফসিপিএস) প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ঊংঃধনষরংযসবহঃ ড়ভ ঘধঃরড়হধষ অহঃরসরপৎড়নরধষ ঈড়হংঁসঢ়ঃরড়হ গড়হরঃড়ৎরহম ঝুংঃবস’ শীর্ষক প্রকল্পের ‘প্রধান গবেষক’ ছিলেন।
