সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকা, সাভারের আশুলিয়া, বগুড়া ও গাজীপুরে আরও পাঁচটি হত্যা মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত খিলগাঁও থানার দুই হত্যা মামলার অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয় পুলিশকে। ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত আরেকটি অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে আশুলিয়া থানাকে নির্দেশ দেয়। তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মুদি দোকানদার হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা,
শেখ রেহানা, জয়, পুতুলসহ ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ হাজার ৯২ জনকে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
আশিকুল হত্যা : গত ১৯ জুলাই খিলগাঁও থানাধীন বনশ্রী এলাকায় ১৪ বছরের কিশোর আশিকুল ইসলাম গুলিতে নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন ওই কিশোরের মা আরিশা আফরোজ। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন, হারুন অর রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার।
সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হত্যা : আশুলিয়া থানার সামনে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. সাজ্জাদ হোসেন সজলকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সজলের ভাই মিজানুর রহমান। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেনÑ ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন, হারুন অর রশীদ, বিপ্লব কুমার, হাবিবুর রহমান।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, স্বামী হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫৫ জনের নামে গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানায় মামলা হয়েছে। গত ২০ জুলাই নজরুল ইসলাম (৩২) নামের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী পূর্ণিমা বেগম বাদী হয়ে গতকাল মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাসন থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, ছাত্র-জনতার এক দফার আন্দোলনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন দরজি শ্রমিক শিমুল সরদার (৩৫)। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলীয় ৫৩৫ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বগুড়া সদর থানায় নিহত শিমুলের স্ত্রী শিমু বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলায় ১৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ৩০০/৪০০ জনকে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শিশুসহ তিনজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াসহ ২৭০ জনের নামে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার উত্তর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নাজিম উদ্দিন চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সহিদুল ইসলামের আদালতে এ মামলা করেন।
রূপগঞ্জে ৭৪ জনকে আসামি করে ফের মামলা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, রংধনু গ্রুপ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক ও তার ভাই মিজানুর রহমান মিজানসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তিকে পিস্তল দিয়ে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে আইয়ুব আলী নামের ওই ব্যক্তি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। রূপগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) জোবায়ের হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইয়ুব আলী চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে।
নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইল-১ আসনের সাবেক এমপি বিএম কবিরুল হক মুক্তি, কালিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খান শামীম রহমান, যুবলীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাজী ছরোয়ার, কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান কায়েসসহ ১৩৭ জনের নামে নাশকতার মামলা করেছেন বিএনপি নেতা মো. সরাফত আলী সবো। গতকাল নড়াইলের সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলাটি দাখিল করলে বিচারক আলমাচ হোসেন মৃধা বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নড়াগাতি থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিসিবি সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনকে প্রধান আসামি করে ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সকালে স্থানীয় বিএনপিকর্মী আলম সরকার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী জানান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, শফিকুল ইসলাম বাদশা ও আসাদুজ্জামান আসাদসহ ২৩১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
