দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকই ছিলেন ২০-৩০ বছর বয়সী তরুণ। তাদের সংখ্যা ৪১২ জন। এরপর ২২ শতাংশ বা ১৮৫ জন ছিল অনুর্ধ ১২-১৯ বছর বয়সী বয়সী শিশু-কিশোর। এ ছাড়া ১৮ শতাংশ বা ১৫১ জন ছিলেন ৩১-৪০ বছর বয়সী ও ১০ শতাংশ বা ৮১ জন ৪১ বছর বা তদুর্ধ বয়সী ছাত্র-জনতা।
অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর ৭৯ শতাংশ বা ৬৫৬ জনই ছিলেন বুলেট ইনজুরির। এ ছাড়া শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৪ জন বা ১১ শতাংশ ও অন্যান্য ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত রোগী ১০ শতাংশ বা ৭৯ জন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় হাসপাতালের ভূমিকা ও স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা বিষয়ক এসব তথ্য জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যে ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ড স্থাপন করা ও বিনামূল্যে বিশেষায়িত সেবা নিরশ্চিতকরণ। তিন সপ্তাহ ধরে বিনামুল্যে এদের চিবিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ক্যাজুয়েল্টি, নিউরো সার্জারি, অর্থপেডিক্সসহ সব বিভাগে আলাদা চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া সিএমএইচ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ২৬ জনকে ও বিজিবি হাসপাতালে ১৯ জন।
ভর্তি ৮২৯, মৃত্যু ১৭২: হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ২২ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ২ হাজার ৬১৩ জন ছাত্র-জনতা চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২৯ জন ও মারা গেছেন ১৭৯ জন। রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৮৪ জন ও মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন ৮৮ জন। এ ছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন।
প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৪৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন ৪-৮ আগস্ট ৬৪৭ জন। এরপর ১৮-২১ জুলাই ৪৫৭ জন, ১৫-১৭ জুলাই ৩০৪ জন, ২২ জুলাই-৩ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৪ জন ও ৯-২৫ আগস্ট ১২৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
আন্দোলনে আহত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছেন ৯-২৫ আগস্ট ২৯২ জন ও সর্বনিম্ন ১৫-১৭ জুলাই ১৪ জন। এরপর ২২ জুলাই-৩ আগস্ট ২০৬ জন, ৪-৮ আগস্ট ১৯৪ জন ও ১৮-২১ জুলাই ১২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বেশি সার্জারি ইএনটি, মেজর ক্যাজুয়াল্টি: হাসপাতালে তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা নিতে আসা ও ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মেজর সার্জারি হয়েছে ক্যাজুয়াল্টি বিভাগে ৭১ জনের। এই বিভাগে মাইনর সার্জারি হয়েছে ৪৩ জনের। তবে দুই ধরনের মিলে সবচেয়ে বেশি সার্জারি হয়েছে নাক-কান-গলা বিভাগে ১৭৯ জনের। এর মধ্যে ১৭৪ জনের মাইনর ও পাঁচজনের মেজর। এ ছাড়া জেনারেল সার্জারি হয়েছে ১২৬ জনের, অর্থোপেডিক্স সার্জারি ১০৫ জনের, চক্ষু বিভাগে সার্জারি ৮৪ জনের, নিউরো সার্জারি ৪২ জনের, থোরাসিক সার্জারি ১৪ জনের ও ইউরোলজি সার্জারি হয়েছে সাতজনের।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০০ রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৩৫ জন, হাসপাতালে মারা গেছেন ৮৪ জন ও ছুটি হয়েছে ৬১০ জনের।
ভর্তি রোগীর ১৮% ছাত্র: এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৫০ জন বা ১৮ শতাংশ ছাত্র, ৯৭ জন বা ১২ শতাংশ দোকানদার, ৬৪ জন বা ৮ শতাংশ চাকরিজীবী ও ১৬ জন বা ২ শতাংশ গার্মেন্টস কর্মী। অন্যান্য পেশার রোগী ছিলেন ৫০২ জন বা ৬১ শতাংশ।
বাংলাদেশকে বিনামূল্যে ৩০ হাজার টন পটাশ সার দেবে রাশিয়া
ক্ষমতায় গেলে গুম যাতে না হয় তা নিশ্চিত করবে বিএনপি: তারেক রহমান
সাবেক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের ভাগিনাসহ দুই যুবলীগ নেতা আটক