গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা ও মন্দিরে ভাঙচুরের একাধিক ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এসব ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফলাও করে সংবাদ প্রকাশ করে। তবে সেসব ছবি ও ভিডিও অনেক পুরনো বলে ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
ইন্ডিয়া টুডের ফ্যাক্ট চেকে উল্লেখ করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের কিছু ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে মন্দিরটিতে নবনির্মিত কিছু প্রতিমা কেউ বা কারা ভেঙে দিয়ে গেছে। ছবিগুলো শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার ভাদিয়াখোলা গ্রামের একটি গ্রামের একটি দুর্গা মন্দিরে দুষ্কৃতকারীরা এই হামলা চালিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ছবিগুলো শেয়ার করে লিখেছেন, “বেকিং নিউজ ও অশুভ সূচনা, ঘটনা - ১, তারিখ:- ২৭-০৮-২০২৪; বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার,ভাদিয়াখোলা গ্রামের সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের নবনির্মিত প্রতিমা ভাংচুর এর মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসবের শুভ সূচনা।
ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, বাংলাদেশে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ভাইরাল ছবিগুলো সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং দুই বছরের পুরনো।
ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক বলেছে, ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা জানতে আমরা সেগুলো নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করি। তখন আমরা ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট এই একই ছবিগুলো একটি ফেসবুক পেজেও দেখতে পাই। সেখানে ছবিগুলো পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার, ভাদিয়াখোলা গ্রামের সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের নবনির্মিত প্রতিমা ভাংচুর এর মধ্য দিয়ে শারদীয় উৎসবের শুভ সূচনা। খোলা জায়গায়, জনহীন মঠ মন্দিরে পূজা না করাই ভালো। যারা প্রতিমা রক্ষা করতে পারবেন তারা পূজা করবেন। আর যারা রক্ষা করতে পারবেন না তারা পূজা করবেন না।” এর থেকে স্পষ্ট হয় যে প্রতিমা ভাঙচুরের ভাইরাল ছবিগুলো কোনোভাবেই ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের নয়।
এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে আমরা এই সংক্রান্ত একাধিক কিওয়ার্ড সার্চ করি। তখন আমরা ভাইরাল ছবিগুলোসহ ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। সেখানে লেখা হয়েছে, “মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলা বাজারের মন্দিরের বিভিন্ন প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সকালেই ঘটনাস্থলে যান হরিরামপুর থানার পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের তরফে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”
এরপর আমরা ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট অপর এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও এই একই তথ্য। সেখানেও প্রতিমা ভাঙচুরের ভাইরাল ছবিগুলোসহ উল্লেখ করা হয়েছে, “মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ভাদিয়াখোলা বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে। এরপর গতকাল দুপুরে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে প্রতিমাগুলোর ভাঙা অংশ মেরামত করেন কারিগরেরা। পাশাপাশি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর থেকে প্রমাণিত হয় সাম্প্রতিক দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করা হচ্ছে বাংলাদেশে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের দুই বছরের পুরনো ছবি।
শ্যালকের স্ত্রীকে বিয়ে করতে না পেরে শ্বশুরবাড়িতে আগুন, নিহত ৫