এস আলমের বিরুদ্ধে সিআইডির অনুসন্ধান শুরু

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:১২ এএম

ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এস আলম গ্রুপের মালিক মো. সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান জানান, সিআইডি প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্রে সিআইডি জানতে পেরেছে, সাইফুল আলমসহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাতিল করে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে অন্য একটি দেশে পারমানেন্ট রেসিডেন্স গ্রহণ করেছেন। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস ও ইউরোপে অর্থ পাচার করে নিজের এবং তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নামে স্থাবর, অস্থাবর সম্পদ কিনেছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তিনি আরও জানান, পাচার করা অর্থে সিঙ্গাপুরে প্রায় ২৪৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের ‘ক্যানালি লজিস্টিক প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন এস আলম গ্রুপের মালিক। এ ছাড়া ভুয়া নথি তৈরি, জাল-জালিয়াতি এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিদেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও বিনিয়োগের জন্য নামে-বেনামে ৬টি ব্যাংক থেকে ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে বিদেশে পাচার করেছেন। বিদেশে শেল কোম্পানি (নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান) খুলে অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে পাচার করেছেন।

সিআইডির অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাইফুল আলম, তার স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছেলে আহসানুল আলম, আশরাফুল আলমসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়ে মানিলন্ডারিং আইন ও বিধি অনুযায়ী সিআইডি অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত