শিল্পীদের বিভাজন নিয়ে কেউ একটা কথাও বলেনি: সিয়াম 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:১৯ পিএম

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো কাজের জন্য স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। যার কারণে চাইলেও অনেকেই শুটিংয়ে ফিরতে পারছেন না। অপেক্ষা করছেন সঠিক সময়ের। এর মধ্যে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে যেসব তারকা পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। কাজ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

বন্যার্তদের সহায়তায় দুই মাসের আয় দান করেছেন...

গণত্রাণের ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ তার সাধ্যমতো খাবার, শুকনো কাপড় দিয়ে সাহায্য করছেন। এই পরিস্থিতিটা মোকাবিলা করতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। সেই জায়গা থেকে আমি একটা ক্ষুদ্র অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। বন্যা-পরবর্তী সময়টা বেশ কঠিন, ওই সময়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন, ঘরবাড়ির প্রয়োজন হয়। এখন যতটুকু সম্ভব করেছি, আল্লাহ তৌফিক দিলে এবং পরে যদি লাগে তাহলে আরও দিতে প্রস্তুত।

এই সহায়তাগুলো কীভাবে দিচ্ছেন বা তাদের জন্য কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

গতবারের বন্যার সময় আমি কয়েকটা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছিলাম। এবারও তাদের সঙ্গেই অর্থাৎ তিনটি সংস্থার মাধ্যমে বন্যার্তদের মধ্যে সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি। যারা এগুলোর কেন্দ্রীয় দায়িত্বে আছেন, তারাই ভালো জানবেন যে তাদের কখন কী প্রয়োজন হচ্ছে। যেমন কোথাও চিড়া, পানি, ওষুধপত্র দরকার হচ্ছে। আমার পক্ষে তো পুরোপুরি বিষয়টা জানা সম্ভব না, তাই আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি। কারণ আমার মনে হয় টাকা দেওয়াটাই বেটার সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া একটা অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারেও সহায়তা করেছি।

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

জংলি সিনেমার শুটিং শেষ করেছি। এখন পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। এ ছাড়া কিছুদিন আগে নতুন একটা সিনেমার সাইনিং করেছি। সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য দুই মাসের প্রস্তুতি লাগবে। এখন মূলত সেটা নিয়েই ব্যস্ত। এই মুহূর্তে বাকি আর কোনো কিছুই আমার পক্ষে বলা সম্ভব না।

‘জংলি’ সিনেমার মুক্তি কয়েকবারই পেছাল। এটার মুক্তি নিয়ে পরিকল্পনা কী?

এই মুহূর্তে দর্শকরা ছবি দেখার মতো অবস্থায় নেই। কিছুদিন আগে আন্দোলন ছিল, এখন বন্যা। সবাই খুব খারাপ সময় পার করছে। দেশের অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে যখন মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ফিরবেন, তখন রিলিজ দেওয়ার ইচ্ছে আছে। অনেক সময় নিয়ে এবং কষ্ট করে সিনেমাটা নির্মাণ করা। আমরা চাই মানুষ তার ভালো সময়ে প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটা এসে দেখুক।

দেশের বিপ্লবের পর আপনার মতে শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো সংস্কার প্রয়োজন আছে কি না?

আমাদের যে সংগঠনগুলো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে কাজ করে, তারা যেন কোনো রাজনৈতিক দলের না হয়। রাজনৈতিক দলের হলে সে কখনো তার অভিনয়শিল্পীদের দাবিগুলো নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে পারবেন না। তা ছাড়া সেন্সর বোর্ড নিয়ে তো প্রশ্ন আছেই। অনেক ঝামেলা ফেইস করতে হয়। সিনেমায় গল্প বলার সময় বাধ্যবাধকতা থাকায় স্বাধীনভাবে সিনেমা নির্মাণ সম্ভব হয় না। সিনেমা তো একটা আর্ট। সিনেমা এগোবে গল্পের প্রয়োজনে। পরিচালক চাইলেও পর্দায় অনেক কিছুই দেখাতে পারেন না। পরিচালক এবং অভিনয়শিল্পীদের সেই স্বাধীনতাটা দিতে হবে। সিনেমায় কাজের জন্য যদি কোর্টে যাওয়া লাগে বা লিগ্যাল নোটিস দেওয়া হয়, সেগুলো তো একজন শিল্পীর জন্য খুব ভয়ংকর। এই মুহূর্তে আমাদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাই এক হয়ে কাজ করলেই শুধু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে জাগরণ তৈরি করা সম্ভব। এখানে অনেকেই আছেন যাদের উপার্জন নির্ভর করে এই ইন্ডাস্ট্রির ওপর। যারা চাকরিজীবী, তারা দুদিন পরে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এখন যদি সিনেমার কাজ না হয়, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর অর্থের জোগান হবে না। তারা তো চুরি-ডাকাতি করবেন না। তারা ক্রিয়েটিভ সেক্টরে কাজ করেন। তাদের সেই কাজের জায়গা করে দিতে হবে। একটা প্রোডাকশন যদি কাজ শুরু করতে না পারে, তাহলে আরও ২০০ জন মানুষ ইনকাম করতে পারবেন না। তাদের আয়ের রাস্তাটা বন্ধ হয়ে থাকবে।

শিল্পীদের মধ্যে একটা বিভাজন রয়েছে, সেটা নিরসন করে কীভাবে শিল্পীরা সংঘবদ্ধ হতে পারেন?

আমাদের শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়ে গেছে। কিন্তু সত্যটা হলো, বিভাজনের বিষয় নিয়ে কেউ কোনো একটা কথাও বলেনি। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের আলাদা চিন্তা-চেতনা আছে। কিন্তু খেলার সময় তো তারা বাংলাদেশের জন্য খেলে। তারা যখন মাঠে খেলতে নামে, সেখানে তো কারও কোনো দ্বিমত নেই। তেমনি আমরা যখন একটা সিনেমায় কাজ করি। সবাই (আর্ট, ক্যামেরা, লাইট ও মিউজিক) একটা চিন্তা নিয়েই মাঠে নামি, ভালো সিনেমা নির্মাণ করা। যেন বাংলাদেশর দর্শকরা সিনেমাটা দেখে এবং পছন্দ করে। রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার সময় পার করে এসেছি, এখন সবাইকে এক উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে। একজন আরেকজনের মধ্যে বিভাজন সারাজীবন থাকবে। কারও সাদা পছন্দ আবার কারও কালো পছন্দ। কিন্তু কাজের মধ্যে এসে বৈষম্য করা যাবে না। এই জায়গাগুলো সংস্কার করার জন্য আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে যারা মুরব্বি আছেন এবং শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেন, এমন সংগঠনগুলোকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা অভিনয়শিল্পীদের দাবি, চাওয়া-পাওয়া তুলে ধরবে। ইন্ডাস্ট্রিতে একটা সিনেমা এলে আমরা যদি সাপোর্ট করতে না পারি, তাহলে আমরা শুধু পেছাতেই থাকব, কখনো এগোতে পারব না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত