হাজী সেলিম রিমান্ডে, আটকের পর মুক্ত মঞ্জু

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৮ এএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কলেজ শিক্ষার্থী খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল সোমবার তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি নিয়ে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত হাজী সেলিমকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে তোলা হয়। তার রিমান্ড শুনানি কেন্দ্র করে সিএমএম আদালত এলাকায় নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রিমান্ড শুনানিকালে এজলাসের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন হাজী সেলিম। মামলা-সংক্রান্ত ওকালতনামায় তার আইনজীবী প্রাণ গোপাল নাথ স্বাক্ষর নিতে গেলে তিনি (হাজী সেলিম) অসুস্থতার কারণে স্বাক্ষর করতে পারেন না বলে জানান। পরে তিনি নথিতে টিপসই দেন। তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, ‘হাজী সেলিম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, অসুস্থ থাকার কারণে আওয়ামী লীগ তাকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়নি, অসুস্থতার কারণে তিনি কথা বলতে পারেন না। যে লোকটা কথা বলতে পারেন না, তাকে রিমান্ডে নিয়ে কী জিজ্ঞাসাবাদ করবে? তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাবেন না।’ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

গত রবিবার মধ্যরাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল পুরান ঢাকার বংশাল এলাকা থেকে হাজী সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় লালবাগের আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। গত ১৯ আগস্ট তার বাবা কামরুল হাসান লালবাগ থানায় এ হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলিতে ছাত্র নিহতের একাধিক মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হাজী সেলিম। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অন্য নেতাদের মতো হাজী সেলিমও আত্মগোপনে চলে যান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে ডিবিতে নিয়ে ছেড়ে দিল পুলিশ : সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে তুলে নেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা আনুমানিক আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে তাকে তুলে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নিজেই দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাত সাড়ে ৯টার দিকে। তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। কথা বলল, চলে আসলাম।’

এর আগে রাজধানীর ধানম-ির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. রবিউল হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে। এখন তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

মঞ্জু কীভাবে ছাড়া পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির একটি সূত্র জানায়, অসুস্থ ও বয়স্ক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বিচারিক ক্ষমতায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি ওয়াকিবহাল নই। তাকে গ্রেপ্তার বা আটকের বিষয়েও আমি কিছু জানি না। তার জামিনের ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না। ডিএমপির মিডিয়া শাখায় যোগাযোগ করলে আপনারা জানতে পারবেন।’

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমরাও কিছু জানি না। আমাদের কিছু না জানালে সেটা স্যার (ডিসি/এডিসি মিডিয়া) বলতে পারেন না।’

ডিবির কোন টিম আপনাকে নিয়ে গিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করিনি। বেলা আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে আমাকে এসে তারা নিয়ে যায়।’ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, কী আলাপ হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না... না... আমি তো আড্ডাবাজ মানুষ। আপনারা তো জানেনই। কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।’ 

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রাজনীতিবিদ ছাড়াও একজন ব্যবসায়ী। পিরোজপুর-২ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিন মেয়াদে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গত নির্বাচনে হেরে যান।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) গঠন করে এর চেয়ারম্যান হন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাবা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া একজন নামকরা রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মঞ্জু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত