দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন

ডেসকোর সেই অর্গানোগ্রাম অনুমোদন হয়নি

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৩ এএম

ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) কর্র্তৃপক্ষ ৮শ কোটি টাকার বেশি লোকসানে থাকার পরও তড়িঘড়ি করে অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) সংশোধনের মাধ্যমে নতুন পদ সৃষ্টির যে উদ্যোগ নিয়েছিল সেটির অনুমোদন দেয়নি পরিচালনা পর্ষদ। প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) সংশোধনের চেষ্টা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরে ‘৮০০ কোটি লোকসান তবুও জনবল বাড়াতে তোড়জোড়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় সমালোচনা। একই দিন বিকেলে ডেসকোর বোর্ড সভায় প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে বোর্ডের সদস্যরা তাতে সায় দেননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল পরিচালনা পর্ষদের একজন পরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামটি অসম্পূর্ণ ছিল। বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত ছিল না সেখানে। ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন করে আবার উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। সেজন্য ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে বোর্ড। পরবর্তী বোর্ড সভায় কমিটি গঠনের বিষয়টিও জানানোর কথা বলা হয়েছে।’

ডেসকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামের মাধ্যমে নতুন পদ সৃষ্টি করে আরও প্রায় ২৩০ জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। যাদের মধ্যে অন্তত ১৫০ জন প্রধান প্রকৌশলী থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এসব কর্মী দিয়েই গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন করে আরও কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, যানবাহন, জ্বালানি, চালক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বাড়বে।

এক সময়ে মুনাফায় থাকা কোম্পানিটি ২০২২-২৩ হিসাববছরে ৫৪১ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট লোকসান করেছে। এরপর থেকে গত মার্চ পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ২৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ৮১১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে, যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন এক পরিস্থিতিতে ডেসকো ব্যয় বৃদ্ধির এ অর্গানোগ্রাম পাস করার উদ্যোগ নেয়, যখন সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের জন্য ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও গত রবিবার তার অধীনে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয়ের অযাচিত ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ডেসকোর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, অর্গানোগ্রাম সংশোধন হলে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বাড়ার পাশাপাশি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা নতুন করে আবারও বাড়তি সুবিধা পেতেন। বঞ্চিতরা আগের মতোই বঞ্চিত থাকতেন। সুবিধাভোগী আর দুর্নীতিবাজরা যদি ওপরের পদ দখল করেন, তাহলে ডেসকোর লোকসান-দুর্নীতি দুটোই বাড়বে।

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে এক যুগের বেশি সময় ধরে ‘বঞ্চনার শিকার’ হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ডেসকো কর্র্তৃপক্ষকে তাদের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করার পর অর্গানোগ্রাম সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের সেই দাবি আমলে না নিয়ে অর্গানোগ্রাম সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা ‘বঞ্চিত’ ৭৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈষ্যমের প্রতিকার চেয়ে গত ২১ আগস্ট ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীদের আরও সুবিধা দিতে একটি কমিটি গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সংশোধিত ওই অর্গানোগ্রামটি তৈরি করে জমা দেয়। হঠাৎ করেই বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের একজন উপদেষ্টা এবং ডেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল তার সহযোগীদের যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে যোগ্যদের ‘বঞ্চিত’ করার পাশাপাশি নতুন করে অর্গানোগ্রাম সংশোধন করে আবারও তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত